মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

তারেক রহমান ও কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ ঘোষণার দাবি

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

তারেক রহমান ও কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ ঘোষণার দাবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মরহুম আরাফাত রহমান কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ এবং বেগম খালেদা জিয়াকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের ১১তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই জোরালো দাবি উত্থাপন করেন। 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে দীর্ঘ নয় মাস সপরিবারে বন্দি ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সেই দুঃসহ সময়ে তাঁর দুই শিশুপুত্র তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোও মায়ের সঙ্গে বন্দিশালায় অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন। 

ইতিহাসের এই সত্যকে কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই এবং এটি কোনো রাজনৈতিক চাটুকারিতা নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।গাজীপুরবাসীর পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কথা জানিয়ে এমপি মুজিবুর রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর অসীম ধৈর্য ও দেশপ্রেমের জন্য পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে শৈশবেই নয় মাস বন্দি জীবন কাটানোয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর ছোট ভাই মরহুম আরাফাত রহমান কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করার জন্য তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ জানান। 

তিনি মনে করেন, একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়তে হলে ইতিহাসের প্রতিটি ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন প্রয়োজন।বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, শৈশবে যুদ্ধের ময়দানে বন্দি থাকা থেকে শুরু করে পরবর্তী জীবনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া পর্যন্ত কোকোর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় অত্যন্ত বেদনাবিধূর। 

তাকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশপ্রেমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ যেভাবে রাজপথে নেমেছে, তাকে ঐতিহাসিক জাগরণ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়কে নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ১৯৭১ সালে এই পরিবারটি যে অসীম ত্যাগের পরিচয় দিয়েছে, তা নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা উচিত। সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের এই প্রস্তাবের পর অধিবেশনে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অনেকে টেবিল চাপড়ে এই দাবিকে সমর্থন জানান।