এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে একগুচ্ছ বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার জারি করা এক সরকারি কার্যপত্রে জানানো হয়েছে, বর্ষবরণের প্রধান আকর্ষণ বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা কোনোভাবেই মুখে মুখোশ পরে অংশ নিতে পারবেন না। তবে শিল্পমানসম্পন্ন মুখোশগুলো প্রদর্শনের জন্য হাতে বহন করা যাবে।
নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, শোভাযাত্রায় প্রদর্শিত মুখোশ বা কাঠামো এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে তা দিয়ে মুখ ঢেকে না থাকে। মূলত উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গল শোভাযাত্রা একবার শুরু হওয়ার পর মাঝপথে নতুন করে কাউকে এতে যুক্ত হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইংরেজি বা অন্য কোনো বিদেশি ভাষার এবং ভিন্ন রাজনৈতিক বা উদ্দেশ্যমূলক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে আসা বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারির কথা বলা হয়েছে। রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় জনসাধারণের নতুন করে প্রবেশ বন্ধ রাখা হবে।সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব, এসবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উৎসবে ইভটিজিং, পকেটমার ও উশৃঙ্খলতা রোধে সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। জনসমাগমে কেউ হারিয়ে গেলে সহায়তার জন্য রমনা পার্কে একটি ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ কেন্দ্র ও মাইকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরের মতো জলাশয়গুলোতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং কোস্টগার্ডের নৌ টহল সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে।
পরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রেও কিছু নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। আগামী ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্টিকার ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো, আতশবাজি ফোটানো এবং বিরক্তিকর ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে আকাশপথে নজরদারি ও জরুরি সহায়তার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর হেলিকপ্টার এবং সিএমএইচ প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি চৈত্র সংক্রান্তির যাবতীয় অনুষ্ঠান রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরণের গুজব বা অপপ্রচার ছড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে পুলিশের সাইবার ইউনিট ও সিআইডিকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ৩০০ ফিট এলাকায় কার ও মোটরসাইকেল রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের সব সিনেমা হল এবং কূটনৈতিক এলাকাগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একটি সুন্দর ও নিরাপদ বর্ষবরণ নিশ্চিত করতে জনগণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে সরকার।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন