এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরে সংসদকে জানান যে এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন যে আগের সরকারের সময়ে দেশের অর্থনীতির প্রতিটি সূচকেই গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা বিদ্যমান ছিল। দুর্নীতির ব্যাপক প্রসারের কারণে সে সময় দেশের মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের আয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ ক্রমাগত দারিদ্র্যের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল।
এই বৈষম্য দূর করে একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান যে চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ভর্তুকি দিতে হবে। মূলত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্যমতে এই ভর্তুকি বাজেটে কিছুটা ঘাটতি তৈরি করতে পারে তবে সরকার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বিষয়ে মন্ত্রী আরও বলেন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালেও দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলো নিম্নমুখী ছিল। বর্তমানে সেই নিম্নগামী ধারাকে পুনরায় উপরের দিকে টেনে তোলার গুরুদায়িত্ব জনগণ এই সরকারের ওপর ন্যস্ত করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী জানান যে সরকার বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়া বাজার কারসাজি বা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান হবে অত্যন্ত কঠোর এবং দেশে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হবে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন