বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

যুদ্ধবিরতি হলেও কাটবে না জ্বালানি সংকট: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১১:১৯ এএম

যুদ্ধবিরতি হলেও কাটবে না জ্বালানি সংকট: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পুরোপুরি দূর হবে না বলে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। শুক্রবার ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নবম সম্মেলনে (আইওসি) বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। 

তিনি এই সংকট মোকাবিলায় এ অঞ্চলের দেশগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন কেবল সাময়িক রাজনৈতিক সমঝোতা দিয়ে বর্তমান বিশ্ববাজারের অস্থিরতা কাটানো সম্ভব নয়।

খলিলুর রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বর্তমানে এক অত্যন্ত উত্তাল ও অস্থির সময় অতিক্রম করছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট এই অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। 

তিনি মনে করেন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কাঠামোটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। পরিবর্তিত এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান তারেক রহমান বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বা এমএসএমই খাতের সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। 

একই সাথে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি ‘সুপার সোর্সিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এর প্রধান লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের সাথে দেশের অর্থনীতিকে আরও নিবিড়ভাবে সংযুক্ত করা। তিনি বলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তি বর্তমানে উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই তরুণ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে এসএমই খাতকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি বিদ্যমান সমন্বয় কাঠামোগুলো পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে বলে ড. খলিলুর রহমান মনে করেন। তার মতে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়তে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। 

অন্যথায় শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং আঞ্চলিক সুসম্পর্কই ভবিষ্যতে বড় বড় সংকট মোকাবিলায় পথ দেখাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মূলত জ্বালানি নিরাপত্তাকে জাতীয় উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।