বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। 

মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষ্যে আজ সোমবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন যে, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এই অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। 

তথ্যপ্রযুক্তির এই আধুনিক সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ দেশের কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের যে ধারাবাহিকতা রয়েছে, তা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয় বলে তিনি মনে করেন। বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যবোধ সৃষ্টি করে।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড ও দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে। এ ছাড়াও ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে জানান যে, কৃষক ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি শুরু হলো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষি খাতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। বাংলা নববর্ষে এটিই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান প্রত্যয় ও প্রত্যাশা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে দেশে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির সহনশীলতা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা এখন আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে অতীতের সব হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিশেষে তিনি সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।