বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতা পদক প্রদান ২০২৬

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ প্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই সম্মাননা প্রদান করেন। 

এবারের আয়োজনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য সাধারণ অবদানের জন্য ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এই মর্যাদাপূর্ণ পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

এবারের পুরস্কার প্রাপ্তদের তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম হিসেবে উঠে এসেছে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র রক্ষা এবং নারী শিক্ষাসহ সামগ্রিক রাষ্ট্র গঠনে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি জায়মা রহমান। এই মুহূর্তটি মিলনায়তনে উপস্থিত সবার মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। এর আগে গত ৫ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পদকপ্রাপ্তদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল।মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে এবার মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন মেজর মোহাম্মদ আবুল জলিল এবং প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই স্বীকৃতি পেয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য অধ্যাপক ড. জহুরুল করিমকে পদক প্রদান করা হয়েছে। 

চিকিৎসাবিদ্যায় বিশেষ সাফল্যের জন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে সম্মানিত করা হয়েছে। সংস্কৃতি অঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) এবং মরণোত্তর সম্মাননা হিসেবে বশির আহমেদকে এই পদক দেওয়া হয়। সাহিত্যে মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন ড. আশরাফ সিদ্দিকী এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে জোবেরা রহমান লিনুকে এই পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাজসেবা ও জনসেবা বিভাগে এবার বেশ কয়েকজন এই সম্মাননা অর্জন করেছেন। মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী। এ ছাড়া মো. সাইদুল হক, এস ও এস চিলড্রেন ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম এবং অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এই সম্মাননা পেয়েছেন। 

জনপ্রশাসনে মরণোত্তর পদক পেয়েছেন কাজী ফজলুর রহমান এবং পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন বা পিকেএসএফ। পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য আব্দুল মুকিত মজুমদার বাবুকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেকে ১৮ ক্যারেটের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, একটি সম্মাননা সনদপত্র এবং সম্মানির চেক লাভ করেছেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদকপ্রাপ্তদের সাথে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।