রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস আজ

জাতীয় ডেস্ক

মে ১৬, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস আজ

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস আজ শনিবার (১৬ মে)। ১৯৭৬ সালের এই দিনে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে এই ঐতিহাসিক লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশের পানির অধিকার প্রতিষ্ঠায় এটি ছিল এ যাবৎকালের অন্যতম সর্ববৃহৎ গণআন্দোলন।ভারতের এই বাঁধ নির্মাণের পর থেকেই মূলত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ধীরে ধীরে মরুকরণের তীব্র ঝুঁকিতে পড়ে।

ঐতিহাসিক এই দিবসে সেদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার অধিকারকামী মানুষ রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানে এসে সমবেত হন। পরবর্তীতে সেখান থেকে বিশাল এই লংমার্চের বহর চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গিয়ে সফলভাবে শেষ হয়েছিল। দেশের নদী ও পানির ন্যায্য অধিকার আদায়ে এত বড় গণআন্দোলন এর আগে কিংবা পরে খুব একটা দেখা যায়নি।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে ভারতের মনোহরপুর এলাকায় এই বিতর্কিত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। এই বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গার মূল স্রোতের পানি অন্যদিকে প্রবাহিত করায় বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ অনেক কমে যায়। এর সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব হিসেবে প্রমত্তা পদ্মা নদী বছরের বেশিরভাগ সময় জুড়ে মারাত্মক নাব্য সংকটে ভুগছে।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ফারাক্কার পানি বণ্টন নিয়ে ৩০ বছর মেয়াদি একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত পানির ন্যায্য হিস্যা এখনও পায়নি এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই সংকটের কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেনি।