জুন ১২, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যকার মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন শেষ হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) শেষ হওয়া এই দ্বিপাক্ষিক সম্মেলন শেষে দুই বাহিনীর প্রথাগত যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দীর্ঘ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ইতিহাসে এই প্রথম এমন নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল।
চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ৫৭তম এই সীমান্ত সম্মেলনে উভয় দেশের প্রধানেরা সীমান্ত নিরাপত্তা ও পুশইনের মতো বিতর্কিত বিষয়ে নিজ নিজ দেশের অবস্থান তুলে ধরেন।যৌথ আলোচনার নথিতে স্বাক্ষরের পর দুই বাহিনীর মহাপরিচালকেরা প্রথা ভেঙে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি।এই শীর্ষ বৈঠকে বিজিবি ও বিএসএফ প্রধানেরা পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এ ছাড়াও সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরপরাধ বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় প্রধান স্থান পেয়েছে। গত সোমবার বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লিতে পৌঁছায়। এরপর মঙ্গলবার দিল্লির লোদী রোডে বিএসএফের সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত ও বাংলাদেশের এই ৫৭তম সীমান্ত শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়েছিল।
বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বিএনপি সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর দুই বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের প্রথম বৈঠক ছিল এটি। বৈঠকের আগে গত রোববার ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে বিএসএফের তথাকথিত পুশইন এবং সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনাগুলো বৈঠকে কঠোরভাবে উত্থাপন করা হবে। দুই দেশের মধ্যে এই মহাপরিচালক স্তরের সীমান্ত বৈঠক ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর একবার অনুষ্ঠিত হলেও ১৯৯৩ সাল থেকে এটিকে বছরে দুই বার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এই বৈঠক হয়েছিল।
ভারত ও বাংলাদেশের মোট ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার অংশ পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। সীমান্তের প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার অংশ এখনও সম্পূর্ণ বেড়াবিহীন রয়েছে যার মধ্যে ১৭৪ দশমিক ৫১ কিলোমিটার এমন এলাকা যেখানে ভৌগোলিক কারণে বেড়া নির্মাণ সম্ভব নয়। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এর ফলে অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কারের পর্যায়ক্রমিক বিশেষ থ্রিডি অ্যাকশনের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন