জুন ১৪, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থাপনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চলতি ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ নাগাদ প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আজ রোববার ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উত্থাপিত একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী লিখিতভাবে এই প্রগতির চিত্র প্রকাশ করেন।এই মেগা প্রকল্পটি বর্তমানে কমিশনিং ও স্টার্ট-আপ পর্যায়ে রয়েছে যা বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে সবচেয়ে জটিল এবং চূড়ান্ত ধাপ।মন্ত্রী তাঁর জবাবে উল্লেখ করেন যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের সামগ্রিক জ্বালানি খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ নিখুঁত পরিকল্পনা, জটিল নির্মাণকাজ ও প্রস্তুতিমূলক কার্যাবলী শেষে প্রকল্পটি এখন এর চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ এর স্টেজ-বি অর্থাৎ ফুয়েললোডিং ও ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বর্তমানে রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন, বোরিক এসিড সংযোজন, রিঅ্যাক্টর ও প্রাইমারি সার্কিট পরীক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাব-ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষাসহ অন্যান্য অতি প্রয়োজনীয় কমিশনিং কার্যক্রম দিনরাত চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান যে পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরকে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বিত পরীক্ষা এবং নিম্নক্ষমতায় রিঅ্যাক্টর পরিচালনার মাধ্যমে স্টার্ট-আপ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে, যেখানে প্রথমে ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং পরে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষমতায় পরিচালনা করে বিভিন্ন কারিগরি মূল্যায়ন করা হবে। সব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পর জ্বালানি লোডিং শুরুর প্রায় ১১৪ দিন পর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে এবং আশা করা যাচ্ছে যে আগস্টের শেষ নাগাদ সেখান থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন