জুলাই ২, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
দেশজুড়ে পরিচালিত সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পূর্ণ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং রোপণ করা চারার সুরক্ষায় এবার বিশেষ ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করছে সরকার। সরকারের জাতীয় সবুজ মিশনের অধীনে দেশব্যাপী রোপণ করা চারাগুলোর সার্বিক বৃদ্ধি ও টিকে থাকার হার সুনির্দিষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করতে একটি আধুনিক ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থ-বছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট এবং বাংলাদেশ জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারকরণের অংশ হিসেবে এই দূরমুখী ও টেকসই পদক্ষেপের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দেশের বন ও পরিবেশ খাতের তদারকিতে এক অভূতপূর্ব স্বচ্ছতা আসবে।বন অধিদপ্তরের এই বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল ও আধুনিক করতে নতুন তৈরি হতে যাওয়া অ্যাপটিকে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস এবং ইনফরমেশন সিস্টেম বা জিআইএস ভিত্তিক উন্নত তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত করা হবে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বনায়নকৃত এলাকার একটি নির্ভুল ডিজিটাল মানচিত্র ও বিশাল তথ্যভান্ডার কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বৃক্ষরোপণ এলাকা, যেখানে সশরীরে নিয়মিত তদারকি করা অত্যন্ত কঠিন, সেখানে চারার টিকে থাকা নিশ্চিত করতে এই অ্যাপ্লিকেশনটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে তাদের বাড়ি ও বসতভিটায় ১ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া ‘একটি শিশু, এক বৃক্ষ’ কর্মসূচির ক্ষেত্রে এই অ্যাপের মাধ্যমে ধারাবাহিক ডিজিটাল তদারকি ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা যাবে।
জাতীয় সবুজ মিশনের দূরদর্শী পরিকল্পনার আওতায় আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশব্যাপী মোট ২৫ কোটি গাছ রোপণের এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই বৃহৎ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অবক্ষয়িত বন পুনরুদ্ধার, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং কার্বন শোষণ সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও রয়েছে।
এর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধির যুগোপযোগী কৌশল হিসেবে উপকূলীয় অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশ এলাকাকে কার্বন বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় আনার বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বনায়ন কর্মসূচিতে উপকূলীয় চরাঞ্চলে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ রোপণ, পাহাড়ি অঞ্চলের শালবন পুনরুদ্ধার এবং বিলুপ্তপ্রায় বনজ প্রজাতি সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সড়ক, মহাসড়ক, বাঁধ এবং নদীতীরের পতিত জমিতে কৃষিবনায়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি এবার বাজেটে সুগন্ধি গাছের নির্যাস আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বাসস

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন