জুলাই ১১, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে দেশের ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার ডিএমসি ডে-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের মতো ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আন্দোলনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। সেদিন আহত ও শহীদ মানুষগুলোর পাশে তারা দাঁড়িয়েছিলেন এবং নিরলস চিকিৎসা সেবা দিয়েছিলেন।
চিকিৎসকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা জনগণের পরম বন্ধু ও ভরসার জায়গা। মানুষ বিপদে পড়লেই ডাক্তারের কাছে ছুটে যান। নিজের মায়ের চিকিৎসার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রখ্যাত চিকিৎসকরা দীর্ঘ সময় ধরে আমার মায়ের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসা করেছেন। বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, উন্নত যন্ত্রপাতি সেখানে থাকলেও যে মানবিক সেবা আমি এখানে পেয়েছি, তা সেখানে পাওয়া সম্ভব ছিল না।
স্বাস্থ্যসেবার নিরাপত্তা ও জনবল বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীদের সেবা বাড়াতে পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও মিডওয়াইফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশে প্রায় ৬০০টি উপজেলা থাকলেও মাত্র পাঁচটি উপজেলায় ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে বসবাস করেন। তাই গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতি বছর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান, আসুন আমরা এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলি যাতে দেশের মানুষ আস্থার সঙ্গে দেশেই উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেন এবং বিদেশমুখিতা কমে আসে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন