রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দেশীয় ৫ প্রজাতির মাছে মিলল ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

জাতীয় ডেস্ক

আগস্ট ৬, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

দেশীয় ৫ প্রজাতির মাছে মিলল ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেশীয় পাঁচ প্রজাতির ছোট মাছে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। আড়িয়াল বিল থেকে সংগৃহীত মাছগুলোর কেবল অন্ত্র বা ফুলকায় নয়, বরং মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত মাংসপেশিতেও প্লাস্টিকের অতি সূক্ষ্ম কণা মিলেছে। সদ্য প্রকাশিত এই গবেষণায় সবচেয়ে বেশি দূষণের শিকার হিসেবে কই মাছকে চিহ্নিত করা হয়েছে।৩০০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো মাছের পরিপাকতন্ত্রের দেয়াল অতিক্রম করে সরাসরি মাংসপেশিতে পৌঁছে যাচ্ছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে এই বিস্তৃত গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষক দলটি আড়িয়াল বিলের গাদীঘাট ও আলমপুরসহ পাঁচটি ভিন্ন স্থান থেকে গত দুই বছরের বিভিন্ন মৌসুমে পানি, পলিমাটি ও ১৫০টি মাছের নমুনা সংগ্রহ করেন। কই ছাড়াও বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা এবং পুঁটি মাছের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়। কই মাছ সর্বভুক হওয়ায় এর অন্ত্র ও মাংসে সর্বাধিক দূষণ পাওয়া যায় এবং এর বিপরীতে পুঁটি মাছে সবচেয়ে কম প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

মাছের শরীরে থাকা এসব কণার ৩৪ থেকে ৬৩ শতাংশই হলো বিভিন্ন ধরনের মাইক্রোফাইবার বা কৃত্রিম তন্তু। পানিতে কাপড় ধোয়ার সময় নির্গত তন্তু, গৃহস্থালির বর্জ্যপানি এবং মাছ ধরার প্লাস্টিক জাল থেকে মূলত এই দূষণ ছড়াচ্ছে। পরীক্ষাগারে রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন ও পলিভিনাইল ক্লোরাইডের মতো ক্ষতিকর পলিমার শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো সাধারণত দৈনন্দিন ব্যবহৃত ব্যাগ, মোড়ক ও বোতলে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে এসব মাছ খাওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণ না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছর পর অথবা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এই দূষণের গুরুতর দিকগুলো প্রকাশ পেতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিল ও নদীসংলগ্ন এলাকায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি উৎস থেকেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা।