আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির বিরুদ্ধে দেশের মাঠে লড়াই দেখার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে প্রবল উৎসাহের সৃষ্টি হয়। ভিনিসিউস জুনিয়র কিংবা এনড্রিকের মতো বিশ্বমানের তারকাদের সামনাসামনি দেখার এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না সাধারণ সমর্থকরা। তবে এ ধরনের বিশ্বমানের কোনো দল বা হেভিওয়েট প্রতিপক্ষকে নিজেদের মাঠে আতিথেয়তা প্রদান করার পেছনে বিশাল অঙ্কের আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ও ব্যবস্থাপনার বিষয় জড়িত থাকে।
ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দলকে বাংলাদেশে এনে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় তিন মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে জানা গেছে।সাম্প্রতিক সময়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই ধরনের একটি প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজনের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোনো অর্থ বা অনুদান ব্যয় করা হবে না।
অতীতে ২০১১ সালে আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য বাফুফের প্রায় ছাব্বিশ থেকে সাতাশ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। বর্তমান বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে বর্তমান সময়ে খরচের পরিমাণ আরও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই আয়োজনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়নি, কারণ সরকার থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে বাফুফে কিংবা কোনো স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি নিজস্ব উদ্যোগে স্পন্সর জোগাড় করতে পারে, তবে ম্যাচ আয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করা হবে।
সেক্ষেত্রে ম্যাচ আয়োজনের যাবতীয় আর্থিক দায়িত্ব বা দায়ভার সম্পূর্ণভাবে স্পন্সরদের নিজেদের কাঁধেই নিতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সরকারের এমন সুনির্দিষ্ট অবস্থানের পর পুরো বিষয়টি এখন মূলত বেসরকারি স্পন্সরশিপ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করছে। দেশের ক্রীড়াপ্রেমী সাধারণ মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কোনো তৃতীয় পক্ষ বা স্পন্সর এগিয়ে এসে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঢাকা সফরের এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারে কিনা তা দেখার জন্য।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন