মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
দুর্যোগ সতর্কতা

ভূমিকম্প নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১০:৫১ এএম

ভূমিকম্প নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান

ছবি: দিনাজপুর টিভি গ্রাফিক্স

আগামী ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল বা ভুটান অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়া প্রচারিত এসব বক্তব্যে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের নির্দিষ্ট কোনো আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।

আবহাওয়া বিষয়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আবহাওয়াবিদ জানিয়েছে, গত দুই দিনে বহু মানুষ ব্যক্তিগতভাবে বার্তা পাঠিয়ে এই সতর্কবার্তা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে নামহীন ও অজ্ঞাত বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেকোনো বড় ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান ও মাত্রা আগাম নির্ধারণ করার মতো কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এখনো উদ্ভাবিত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, নির্দিষ্ট দিন বা ঘণ্টার হিসাবে ভূমিকম্পের আগাম তথ্য দেওয়া কোনো বিজ্ঞানীর পক্ষেই সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা কেবল দীর্ঘমেয়াদে কোনো অঞ্চলের সামগ্রিক ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি ও সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ করতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝেমধ্যেই মৃদু কম্পন, রেডন গ্যাসের নির্গমন, প্রাণীদের অস্বাভাবিক আচরণ, জোয়ার-ভাটার প্রভাব কিংবা তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের কথা উল্লেখ করে পূর্বাভাসের দাবি তোলা হয়। 

তবে নির্দিষ্ট সময় ও মাত্রা উল্লেখ করে ভূমিকম্পের পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে এসবের কোনো বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি মেলেনি। এমনকি গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার সঙ্গে ভূমিকম্পের সময় মিলিয়ে দেওয়া পূর্বাভাসেরও কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ভূমিকম্পের সার্বিক ঝুঁকি অস্বীকার করার সুযোগ নেই, তবে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি রাখাই সবচেয়ে জরুরি। 

কম্পন অনুভূত হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতিই ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অযাচাইকৃত কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নামহীন বিশেষজ্ঞ বা জ্যোতিষশাস্ত্রীয় দাবির পরিবর্তে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সরকারি সূত্রের নির্দেশনা অনুসরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।