সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলন ওয়ার্ল্ড এনার্জিস সামিটের স্ট্র্যাটেজিক স্টেজে আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের বক্তৃতায় বাংলাদেশের সামুদ্রিক অঞ্চলের বিপুল জ্বালানি সম্ভাবনা বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেশের দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরকার বঙ্গোপসাগরের তলদেশে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করতে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর বলে সম্মেলনে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক শর্তে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬-এ সরাসরি অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের বুকে জ্বালানি অনুসন্ধানে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব খুঁজছে ঢাকা। সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দেশীয় জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি বিশ্ব জ্বালানি খাতের প্রতিনিধিদের জানান, বঙ্গোপসাগরের মোট ২৬টি অফশোর ব্লক আন্তর্জাতিক বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্রের এবং ১৫টি গভীর সমুদ্রের ব্লক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বাংলাদেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, দ্রুত বিকাশমান বিনিয়োগের পরিবেশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সরকারের নেওয়া নানামুখী ব্যবসা-বান্ধব নীতি তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সুবিশাল সমুদ্রসীমার অধিকাংশ অঞ্চলই এখনও পুরোপুরি অনাবিষ্কৃত অবস্থায় রয়েছে। আধুনিক সিসমিক ডেটার সহজপ্রাপ্যতা এবং আন্তর্জাতিক মানের অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট ২০২৬-এর অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য টেকসই ও লাভজনক বিনিয়োগ নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বৈশ্বিক জ্বালানি সংস্থাগুলোকে পেট্রোবাংলা ও সরকারের সরবরাহ করা ভূতাত্ত্বিক এবং সিসমিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পাশাপাশি চলমান দরপত্র প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার তাগিদ দেয়।
সম্মেলনের সাইডলাইনে বিশ্বখ্যাত তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সামিটের প্রথম দিনেই বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চারটি আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানির সাথে অত্যন্ত সফল সাইডলাইন বৈঠক সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল, যেখানে দরপত্র প্রক্রিয়ার নানাবিধ কারিগরি ও বাণিজ্যিক সুবিধা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। দ্বিতীয় দিনে বিশ্বের আরও চারটি খ্যাতনামা বৃহৎ জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের সাথে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সভা নির্ধারিত রয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরে বৈশ্বিক পুঁজি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করছে সরকার।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন