অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে না। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের এক বিশেষ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চিফ হুইপ এসব কথা জানান। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপমুক্ত নির্বাচনই মূল লক্ষ্য।
চিফ হুইপ জানান, সংসদীয় দলের বৈঠকে দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান ব্যবস্থাপনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে খোলামেলা ও বিশদ আলোচনা হয়েছে। সরকারের নেওয়া উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপগুলোর সুফল তৃণমূলের সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে মূল্যায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।
চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই চাঁদাবাজ ও দখলদারের জায়গা বিএনপিতে হবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কোনো অপকর্মে জড়ালে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে নূরুল ইসলাম জানান, উৎসব চলাকালে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা উসকানিমূলক ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নিশ্ছিদ্র নজরদারির বিশেষ নির্দেশনা এসেছে। প্রতিটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপের আয়োজনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ত থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য একক প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেহেতু নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই তৃণমূলের ঐক্য বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাইকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময়সূচি ও আনুমানিক কার্যক্রমের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। কমিশন যাতে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়া কাজ করতে পারে এবং জনগণের ভোটে যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচিত হন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চান। সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকার মানুষের সংকট জেনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের কল্যাণে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মাঠপর্যায়ের সমস্যা শোনা এবং দল ও সরকারের সমন্বয় জোরদারের ওপরই মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন