ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ১১:০০ এএম
লাখ লাখ মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে সমাহিত হয়েছেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। কোনো কোনো পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তার জানাজায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়েছে, যা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো অরাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে এক বিরল ঘটনা।
বয়োজ্যেষ্ঠরা এই জনসমুদ্রের তুলনা করছেন কেবল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজার সঙ্গে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, কেন একজন তরুণ নেতার জনপ্রিয়তা প্রচলিত রাজনৈতিক এলিটদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল?
বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘকাল ধরে একটি দ্বিদলীয় বন্দোবস্ত ও পরিবারতান্ত্রিক কাঠামোয় বন্দি। এই কাঠামো অনেকটা মধ্যযুগীয় ইউরোপের সামন্ততন্ত্রের মতো—যেখানে রাজপরিবার ও অভিজাতরাই সব ক্ষমতার উৎস।
আর সাধারণ মানুষ কেবলই ‘প্রজা’। এই প্রথা ভেঙে একজন সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়েও নিজের মেধা, সাহস ও জনগণের ভালোবাসাকে পুঁজি করে ‘জননেতা’ হওয়ার যে ধৃষ্টতা হাদি দেখিয়েছিলেন, সেটিই ছিল তার ওপর ভার্চুয়াল ও রাজনৈতিক আক্রমণের মূল কারণ।ওসমান হাদি রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ঊর্ধ্বে গিয়ে এক বিকল্প ধারার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি কোনো বড় দলের টিকিট বা কালো টাকার ওপর নির্ভর না করে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ এবং সরাসরি গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন।
হাদির এই ব্যতিক্রমী পথচলা রাজনৈতিক অভিজাতদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ, উচ্চশিক্ষিত ও সৎ যুবসমাজ যদি হাদির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতিতে আসে, তবে পেশিশক্তি ও পরিবারতন্ত্রের ওপর টিকে থাকা পুরোনো রাজনীতি ধসে পড়বে।হাদির শাহাদাতের পর ‘আমরা সবাই হাদি হব’ স্লোগানটি এখন তরুণ প্রজন্মের মুখে মুখে। আসন্ন নির্বাচনে এক-তৃতীয়াংশ ভোটার জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন, যারা কোনো নির্দিষ্ট দলের অন্ধ অনুসারী নন। এই স্বাধীনচেতা তরুণদের হাদি হতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মূলত প্রজা থেকে ‘নাগরিক’ হয়ে ওঠার বিদ্রোহ। ওসমান হাদির রক্তে রঞ্জিত এই পথ বাংলাদেশের ঘুণে ধরা রাজনৈতিক সামন্ততন্ত্র পতনের ঘণ্টা বাজাচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন