রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

বিএনপি সমর্থিত জুনায়েদের বিপক্ষে লড়বেন ব্যারিস্টার রুমিন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ০১:৫৮ পিএম

বিএনপি সমর্থিত জুনায়েদের বিপক্ষে লড়বেন ব্যারিস্টার রুমিন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী সমীকরণ বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। এই আসনে বিএনপির সাথে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব।

তবে জোটের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

গত শুক্রবার বিকেলে সরাইল উপজেলার বিটঘর বাজারে এক মতবিনিময় সভায় রুমিন ফারহানা তার অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন।

তিনি বলেন, আমি যা বলি, তাই করি। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, মার্কা যাই হোক, আমি সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই নির্বাচন করব। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই জেলাজুড়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকছেন।আসন সমঝোতা ও প্রতীকের মারপ্যাঁচ: সম্প্রতি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে সারা দেশে ৪টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। তবে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, এবার জোটগতভাবে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে লড়ার সুযোগ নেই।

ফলে মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীবকে তার দলের নিজস্ব প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ নিয়েই নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হবে।মাঠে দুই হেভিওয়েট: মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব কওমি ঘরানার একজন প্রভাবশালী আলেম এবং সরাইল-আশুগঞ্জ এলাকায় তার বড় একটি সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। অন্যদিকে, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা গত কয়েক বছর ধরে এই আসনে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন এবং সংসদ ও রাজপথে তার জোরালো ভূমিকার কারণে তরুণ ভোটারদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে রুমিন ফারহানা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে টিকে থাকলে এই আসনে জোটের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য এই আসনটি রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় বিএনপি রুমিন ফারহানার এই ‘বিদ্রোহী’ অবস্থানের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় নাকি সমঝোতার নতুন কোনো পথ খুঁজে বের করে।