মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আগামীর বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদ ও সন্ত্রাসের ঠাঁই হবে না

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

আগামীর বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদ ও সন্ত্রাসের ঠাঁই হবে না

আগামীর বাংলাদেশে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের ঠাঁই হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলটি। শনিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে অতীতে ফ্যাসিবাদ যেভাবে সাধারণ মানুষের ওপর চড়াও হয়েছে সেই একই অপচেষ্টা এখন ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য করা হচ্ছে।এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম এবং শ্রিবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শরিফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। 

তিনি বলেন নির্বাচনি শিডিউল ঘোষণার পর থেকে জামায়াত নেতা-কর্মীরা একের পর এক হামলার শিকার হচ্ছেন। অথচ এখন পর্যন্ত এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়নি যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। 

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা না হলে জামায়াত পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। এসব হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং আগামীকাল রোববার নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি দেওয়া হবে।সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত হামলার চিত্র তুলে ধরে জানানো হয় যে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শিবির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলায় ৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ভোলার দৌলতখান, যশোর এবং নোয়াখালীতে নারী কর্মীরা প্রচারের সময় হামলার শিকার হচ্ছেন। কুষ্টিয়ায় জামায়াত প্রার্থী আমির হামজার মায়ের ওপর লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করা হয়। 

এমনকি সুনামগঞ্জে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। জামায়াত নেতার দাবি অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে এসব সহিংসতার সাথে বিএনপির নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যা যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ আটকের ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ৯ তারিখ পর্যন্ত তাদের নির্বাচনি জনসভা ও পথসভাগুলো চলবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে এখনই সন্ত্রাসীদের লাগাম টেনে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করে দলটি। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য জাহিদুর রহমান এবং অলিউল্লাহ নোমানসহ ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াত আশা করছে যে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পক্ষপাতমুক্ত থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারেন।