রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ছবি শেয়ার করে গুরুতর অভিযোগ সারজিসের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ছবি শেয়ার করে গুরুতর অভিযোগ সারজিসের

সারজিসের ফেসবুক পোস্ট

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর কিছু অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ছবি শেয়ার করে তিনি একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। 

সেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি গোপন সমঝোতা বা আঁতাত হয়েছে। সারজিসের এই মন্তব্য ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

সারজিস আলম তার পোস্টে দাবি করেন যে, বিএনপি যখন মাঠ পর্যায়ে গিয়ে অনুধাবন করল তারা এককভাবে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারবে না, তখন তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মেলায়। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি গোপন বৈঠক করেছে এবং আওয়ামী লীগের অপরাধী নেতাকর্মীদের জামিনসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

এনসিপি নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং প্রশাসনের একটি অংশ মিলে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত বা ‍‍`ইঞ্জিনিয়ারিং‍‍` করে বর্তমান সরকার গঠন করেছে।পিলখানা ট্র্যাজেডির প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম তার পোস্টে আরও কড়া সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যে আওয়ামী লীগের আমলে পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, সেই দলেরই রাষ্ট্রপতিকে সঙ্গে নিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো মূলত পিলখানা ট্র্যাজেডি নিয়ে মশকরা করার শামিল।

 তিনি বিএনপি নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা তারেক রহমানকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল এবং বেগম জিয়াকে কারাবন্দি করে নির্যাতন করেছিল, সেই আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করার দায়িত্ব এখন বিএনপি নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছে।সারজিস আলম সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন যে, এই পদক্ষেপের জন্য তাকে ধিক্কার জানানো উচিত। 

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে রাজপথে অংশ নেওয়া কোনো ছাত্র-জনতা যদি ভবিষ্যতে পুনরায় আওয়ামী লীগের হাতে নির্যাতিত বা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়, তবে এর পূর্ণ দায়ভার তারেক রহমান ও বিএনপিকে নিতে হবে। তৃণমূলের বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন যে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের এই সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যতে তারা নিজেরাই যদি পুনরায় নির্যাতনের শিকার হন, তবে তার দায়ও তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপরই বর্তাবে।