ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে সাম্প্রতিক নিয়োগকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বা অলংকারিক দায়িত্ব নয়।
এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ যার ওপর মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা, ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নির্ভর করে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলন মূলত ছিল মেধাতন্ত্র ও দক্ষ প্রশাসনের দাবি। কিন্তু নতুন গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন সক্রিয় শিল্পপতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ দায়িত্বে বসানো হয়েছে যা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন যে ওই ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকার ঋণ নিয়োগের অল্প সময় আগেই বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা হয়েছে।জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয় যে নবনিযুক্ত গভর্নর বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে তার নিয়োগ স্বার্থের সংঘাত এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার প্রশ্নে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে। যিনি নিজেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধাভোগী, তাকে পুরো ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক মহলে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে মেধা ও যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিবৃতিতে আরও বলেন যে শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাংলাদেশের প্রকৃত অগ্রযাত্রা সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি নিজের শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, তার পক্ষে একটি দেশের পুরো আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণ করা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে পেশাদারিত্ব এবং মেধাভিত্তিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। এই নিয়োগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের অবসানের একটি নেতিবাচক সংকেত হতে পারে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন