এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:১৬ এএম
নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন যে, বাংলাদেশে সংঘটিত অভ্যুত্থান কোনো একক শক্তির ফসল নয় বরং এটি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে সাথে নিয়েই সম্পন্ন করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে চাটখিল উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে যারা অভ্যুত্থান করেছে তারাই বর্তমানে সরকারি দল এবং তারাই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে যা একটি সফল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।
আব্দুল হান্নান মাসউদ তাঁর বক্তব্যে তারেক রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তারেক রহমানও এই অভ্যুত্থানের অন্যতম একটি প্রতিচ্ছবি। শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার সহ্য করেছেন এবং রাজপথে লড়াই চালিয়ে গেছেন।
ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার যোগ্যতা রাখেন। তবে জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা নিয়ে ভবিষ্যতে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারা ইঙ্গিত করে এই সংসদ সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মতো দলগুলো ক্ষমতায় আসার পর বা ক্ষমতায় থেকে নিজেদের দল গঠন করেছে। এর বিপরীতে ক্ষমতার বাইরে থেকে নিজেদের আদর্শের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মাত্র দুটি রাজনৈতিক দল যার একটি জামায়াতে ইসলামী এবং অপরটি জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি।
এনসিপি ইতিহাসের প্রথম তরুণ রাজনৈতিক দল যারা যাত্রা শুরু করেই সংসদ নির্বাচনে ছয়জন সংসদ সদস্য নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি এনসিপিকে এদেশের সাধারণ মানুষের সত্যিকারের কণ্ঠস্বর হিসেবে অভিহিত করেন।অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন যে, কে কখন সাধারণ মানুষের নেতৃত্ব দেবে সেটি সৃষ্টিগতভাবে নির্ধারিত থাকে।
বিএনপি বা জামায়াতের মতো বড় রাজনৈতিক দল থাকা সত্ত্বেও অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতৃত্ব ছোট ছোট কয়েকজন তরুণের হাতে ন্যস্ত হয়েছিল এবং সেখান থেকেই আজ তারা সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এটি রাজনৈতিক কৌশলের চেয়েও বেশি বড় ঘটনা বলে তিনি দাবি করেন।বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, সরকার পরিচালনার চেয়েও বর্তমানে মাফিয়ারা বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
মাফিয়াদের এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট যেকোনো সময় সরকার পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে বলেই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, তারা বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিবর্তন নয় বরং সম্পূর্ণ সিস্টেম বা ঘুণে ধরা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চান।প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন যে, বর্তমানে পুলিশ কোনো অপরাধের তদন্তে গেলেও সরকার থেকে প্রয়োজনীয় রসদ বা লজিস্টিক সাপোর্ট পায় না।
কৃষি বীজ সরবরাহ থেকে শুরু করে সরকারি ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রেও পরিবহণ ভাড়ার মতো মৌলিক খরচগুলো ঠিকঠাক বণ্টন করা হয় না। এই ধরনের অব্যবস্থাপনা সরাসরি দুর্নীতির পথ তৈরি করে দিচ্ছে। তাই পুরো ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করা অসম্ভব বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। চাটখিল উপজেলা এনসিপি আয়োজিত এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন