মে ৩, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
সংস্কার নিয়ে বিএনপি সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। তাঁরা বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার এখন সরে এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে সরকার পুনরায় কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবে বলেও তাঁরা সতর্ক করেছেন।রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজিত এক জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
অনুষ্ঠানের প্যানেলিস্ট আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, বর্তমান সংসদ একটি প্রতারণার সংসদে পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার কেবল সেই অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করেছে যা তাদের ক্ষমতা বাড়ায়।
কিন্তু প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মতো প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলো তারা বাতিল করে দিয়েছে। বিএনপি সংবিধান সংস্কারের কথা দিয়েও এখন সেখান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর জনগণের যে স্বপ্ন ছিল, তা ভেস্তে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদে থাকা গুম, মানবাধিকার, দুদক ও বিচার বিভাগীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার একে একে বাতিল করছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাধীন নিয়োগের ব্যবস্থা না করলে প্রধানমন্ত্রী আবারও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান জুলাই সনদকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অনন্য দলিল হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রাখাই ছিল এই সনদের মূল কথা। কিন্তু দলীয় স্বার্থে বিএনপি এখন এসব সংস্কারে চাপ তৈরি করে সমঝোতা করার চেষ্টা করছে।
অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর এটি পরিষ্কার যে বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের মাধ্যমে তারা জনগণের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে আবারও গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সেশনের সভাপতি আখতার হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, গণভোটের রায় মেনে চলা সরকারের দায়িত্ব। বিএনপি এখন বিভিন্ন ওজুহাতে সংস্কারগুলো পাশ কাটাতে চাইছে। কিন্তু জনগণের রায়কে অমর্যাদা করার সুযোগ নেই। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার এবং জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বক্তব্য রাখেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন