বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

জামায়াতের বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

জামায়াতের বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রা

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার সকালে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’-এর ব্যানারে এই উৎসবমুখর শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মুখভাগ থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রাটি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়। 

এতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ রাজধানীর নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রাটি ছিল গ্রামীণ বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের পসরায় সাজানো। অংশগ্রহণকারীরা হাতে করে বহন করছিলেন আবহমান বাংলার চিরচেনা সব উপকরণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল, কুলা এবং লাঙল-জোয়ালের মতো কৃষিজীবী মানুষের প্রিয় সব অনুষঙ্গ।

 শোভাযাত্রার পুরো পথে শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান ছাড়াও জারি, সারি ও ভাটিয়ালি গান পরিবেশন করেন। লোকজ সংগীতের এই মূর্ছনা রাজধানীর রাজপথে এক ভিন্নধর্মী উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।শোভাযাত্রা শুরুর আগে প্রেস ক্লাবের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা বাঙালির নিজস্ব সমৃদ্ধ সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে বিজাতীয় ও পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ জাতির নৈতিক ও সাংস্কৃতিক মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

 নিজস্ব ঐতিহ্যকে বাদ দিয়ে পরসংস্কৃতির চর্চা কখনোই কোনো জাতির জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে না। বক্তারা বাঙালির প্রকৃত চেতনা ও হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকারকে আরও কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, সুস্থ ও দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটলে তরুণ প্রজন্ম নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা পাবে। পহেলা বৈশাখ মানেই শুধু উৎসব নয়, বরং এটি আত্মপরিচয় খুঁজে পাওয়ার একটি মাধ্যম। নিজস্ব কৃষ্টি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে পারলেই দেশ প্রকৃত সমৃদ্ধি অর্জন করবে। শোভাযাত্রাটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও রাজপথে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।