শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে উত্তেজনা, পিএস জনি আটক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে উত্তেজনা, পিএস জনি আটক

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের বাসভবনের সামনে চরম উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে শুক্রবার দিনভর ওই এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করে। পরিস্থিতির এক পর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে রাশেদ প্রধানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জনি নন্দীকে আটক করেছে পুলিশ। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাশেদ প্রধানের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক কর্মীরা তাঁর বাড়ির সামনে অবস্থান নিলে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাশেদ প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান করেন। ওই বক্তব্যের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। 

এর প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকেই ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন এবং তাঁর গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা রাশেদ প্রধানের বাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও জুতা নিক্ষেপ করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।উত্তেজিত জনতা যখন রাশেদ প্রধানের বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে, তখন সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের সাথে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। 

পুলিশ লাঠিচার্জ ও কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মাঝেই পুলিশ রাশেদ প্রধানের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী জনি নন্দীকে আটক করে নিয়ে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এমন অসংলগ্ন বক্তব্য দেশের স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে।

 ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে রাশেদ প্রধানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। অন্যদিকে, রাশেদ প্রধানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ওই এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উসকানিমূলক বক্তব্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।