শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

তেলের সংকটে শ্রমিকদের আয় কমছে: ডা. শফিকুর রহমান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

তেলের সংকটে শ্রমিকদের আয় কমছে: ডা. শফিকুর রহমান

বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান

দেশে বিদ্যমান জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং তাদের উপার্জনে বড় ধস নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন যে বর্তমানে একজন পরিবহন শ্রমিককে দৈনিক গড়ে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর তারা মাত্র দুই হাজার টাকার তেল সংগ্রহ করতে পারছে। 

যার ফলে তেলের পেছনেই তাদের দিনের সিংহভাগ সময় ব্যয় হয়ে যাচ্ছে এবং পরিবারের খরচ জোগাতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। আজ শনিবার রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা ও মহানগরী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন যে তেলের এই সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলতে চাইলে বিরোধীদলীয় সদস্যদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি পাম্প মালিকদের উদ্বৃতি দিয়ে জানান যে তারা আগের তুলনায় এখন অর্ধেক পরিমাণ তেল সরবরাহ পাচ্ছেন। 

এই অব্যবস্থাপনার ফলে শ্রমিকদের কষ্ট এখন চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নিজের জোটকে পরিকল্পিতভাবে হারানোর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন যে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে এবং নির্বাচনের কারিগরি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় গেছে তারা আসলে নিজেদেরই ধোঁকা দিচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে জনগণ এই ধরনের কর্মকাণ্ড বারবার মেনে নেবে না এবং ভবিষ্যতে এসবের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নিজের নৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন যে নির্বাচনের আগে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কোনো বাড়তি সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেবেন না। সেই কথা অনুযায়ী তিনি সরকারি গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধাদি লিখিতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। 

শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দেন যে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সব সময় মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে। তবে কোনোভাবেই কারখানায় বা শিল্প এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না। কারণ কোনো একটি ফ্যাক্টরিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে মালিক, শ্রমিক এবং দেশের সাধারণ জনগণ সবাই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই যেকোনো মূল্যে বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন যে নতুন ব্যাংক আইনের মাধ্যমে মূলত ব্যাংক ডাকাতদের হাতে জনগণের কষ্টার্জিত আমানত তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জামায়াত আমির এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন যে দেশের ব্যাংক খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে তারা এই আইনের প্রতিরোধ করবেন। 

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে বর্তমানে মিডিয়া বা সংবাদমাধ্যমকে অনেক সময় সত্য প্রকাশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বরং তাদের অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা প্রচারে বাধ্য করা হচ্ছে। এই সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই তারা সংসদে জনগণের দাবি আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

শ্রমিকদের অবহেলার বিষয়ে তিনি বলেন যে এদেশের শ্রমিকদের চাহিদা খুবই সামান্য কিন্তু কোনো সরকারই আজ পর্যন্ত তাদের ন্যূনতম দাবি পূরণ করতে সদয় হয়নি। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যান তারা সাধারণত সোনার চামচ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন বিধায় তারা সাধারণ মেহনতি মানুষের দুঃখ অনুধাবন করতে পারেন না।

 তিনি মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে বৈরী সম্পর্কের পরিবর্তে ভাই ভাই সম্পর্ক তৈরির তাগিদ দেন। ইসলামি দর্শনের আলোকে তিনি বলেন যে শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে এবং শিল্পও সুরক্ষিত থাকবে। 

সরকারের কাছে তার দাবি শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে এবং তাদের সন্তানদের সুশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ.ন.ম. শামছুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।