মে ৫, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গণহত্যার দ্রুত বিচার ও হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। মঙ্গলবার বিকেলে মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, শাপলা চত্বর ট্রাজেডি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অধ্যায়।
তিনি ৫ মে তারিখটিকে শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান। মাওলানা মিয়াজী বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করেছিলেন যে শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি।
সমাবেশে হাবিবুল্লাহ মিয়াজী উল্লেখ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের তদন্ত সংস্থা ইতিমধ্যে শাপলা চত্বরে ৩২ জন হত্যার প্রমাণ পেয়েছে। তিনি জানান, সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার উদ্যোগে গত ১৮ অক্টোবর ৫৮টি পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে চেক প্রদান করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। তিনি মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর দেওয়া ৬১ জন এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর দেওয়া ৫৮ জন নিহতের পরিসংখ্যানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
বক্তারা এই হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক আইজিপি, বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত রাজপথে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হয়।
মাওলানা মিয়াজী আরও বলেন, ইসলাম বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে শাপলার রক্তাক্ত চেতনা জাগ্রত রাখতে হবে। শাপলা শহীদদের রক্তের বদলা না নিয়ে তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলে অঙ্গীকার করেন। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা সাঈদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী এবং ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা মাহবুবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সংবাদ শেষ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন