রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

‘দলীয় বিবেচনায়’ ভিসি নিয়োগ: জামায়াতের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৫, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

‘দলীয় বিবেচনায়’ ভিসি নিয়োগ: জামায়াতের উদ্বেগ ও প্রতিবাদ

জামায়াতের প্রতিবাদ

একদিনে দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, এসব নিয়োগে নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্য ও রাজনৈতিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। 

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে এভাবে দলীয়করণের সংস্কৃতি শুরু করা জাতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।গত ১৪ মে একদিনে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বিএনপি সরকার।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মার্চ দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের সময়ও জামায়াত প্রতিবাদ জানিয়েছিল। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ ছিল অগণতান্ত্রিক। এখন সেই একই ধারাবাহিকতা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিস্তৃত করা হচ্ছে।

 বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র হওয়া উচিত। সেখানে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দিলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।জামায়াতের দাবি, দলীয় নিয়োগের কারণে শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়। অতীতে এই ধরনের দলীয়করণের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় অস্থিরতা, সেশনজট ও সহিংসতার মতো ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি জনগণ আর দেখতে চায় না। 

জুলাই বিপ্লবের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল দেশে একটি বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হচ্ছে যে তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পথেই অগ্রসর হচ্ছে।

স্বচ্ছতা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভিসি নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। মিয়া গোলাম পরওয়ার মনে করেন, সরকার নিরপেক্ষ পন্থা অবলম্বন না করে পক্ষপাতদুষ্ট পথে হেঁটেছে, যা জাতির সঙ্গে এক প্রকার প্রতারণা। এই নিয়োগগুলো অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে যোগ্য, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।