মার্চ ১৮, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
দেশের আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর বা উপাচার্য পদে একযোগে আকস্মিক পরিবর্তনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক বা ইউটিএল। গত ১৭ মার্চ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যোবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তারা দাবি করেছেন যে কোনো প্রকার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি করছে। বর্তমান উপাচার্যদের নিয়োগ বাতিল করে রাতারাতি নতুনদের স্থলাভিষিক্ত করার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কোনো স্বচ্ছতা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারগুলোতে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।
ইউটিএল নেতৃবৃন্দ মনে করেন সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত বিরল এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থাকা শিক্ষকদের এভাবে অপসারণ করা পুরো শিক্ষক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য অসম্মানজনক।
সাধারণত একাডেমিক ও প্রশাসনিক যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলেও বর্তমান ক্ষেত্রে পদাধিকারীদের সঙ্গে কোনো পূর্ব আলোচনা বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন যে একজন শিক্ষক তাঁর পেশাজীবনের সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে উপাচার্য পদ অলংকৃত করেন। কিন্তু সৌজন্য ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতি উপেক্ষা করে নতুন নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের পরিপন্থি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপাচার্যরা সাধারণত চার বছরের জন্য নিয়োগ পান। এই সময়ের মধ্যে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। কিন্তু মেয়াদের মাঝপথে এমন আকস্মিক রদবদলের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। উল্লেখ্য যে এর আগে ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে ওবায়দুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ইউটিএল মনে করে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি উচ্চশিক্ষার মান এবং স্বায়ত্তশাসনকে দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন