রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

বিতর্কিত ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের তীব্র নিন্দা

এস এম ফরহাদ

মে ১৫, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

বিতর্কিত ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের তীব্র নিন্দা

দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একযোগে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক নিরপেক্ষতা ও আইনি বাধ্যবাধকতা তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (১৫ মে) ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানে দেড় সহস্রাধিক শহীদের রক্ত ও হাজারো ছাত্র-জনতার ত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল দেশ থেকে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটানো এবং শিক্ষা খাতকে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি থেকে মুক্ত করা। 

কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৪ মে যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তাতে সেই গণআকাঙ্ক্ষাকে সরাসরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, এই নিয়োগ কোনো মেধাভিত্তিক সার্চ কমিটির মাধ্যমে হয়নি, বরং এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক তুষ্টির প্রতিফলন। নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশই ক্ষমতাসীন দলের শিক্ষক প্যানেল ‍‍`সাদা দল‍‍` এবং ‍‍`জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম‍‍`-এর পরিচিত মুখ।

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নবনিযুক্ত ভিসিদের কারও কারও বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও চারিত্রিক স্খলনের অকাট্য তথ্য গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। ছাত্রজীবনে ফৌজদারি অপরাধের অভিযুক্ত বা একাডেমিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও স্রেফ রাজনৈতিক বিবেচনায় তাদের সর্বোচ্চ অভিভাবকের আসনে বসানো হয়েছে।বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির তদন্তে যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়া বা কর্মক্ষেত্রে অনৈতিক আচরণের দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদেরও ভিসির মর্যাদাপূর্ণ আসনে বসানো হয়েছে। 

এমনকি বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের দলীয় অনুগতদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।শিবির নেতৃবৃন্দ সরকারকে সতর্ক করে বলেন, অতীতে যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করে উচ্চশিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছিল, বর্তমান সরকারও একই কায়দায় নিজেদের অনুগতদের পুরস্কৃত করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রাজনৈতিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে গবেষণার আন্তর্জাতিক মান ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন পুরোপুরি ধসে পড়বে।

অবিলম্বে ঘোষিত এই বিতর্কিত ভিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করার দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে কোনো অন্যায্য ও দলীয় লেজুড়বৃত্তিক সিদ্ধান্ত সচেতন ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না। একইসাথে তারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজকে শিক্ষাঙ্গন রাজনৈতিককরণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।