অক্টোবর ৩, ২০২৫, ০৫:৫২ পিএম
আওয়ামী সরকারের রোষানলে পড়ে গত ১৫ বছর চরম বিপর্যস্ত থাকার পর জুলাই বিপ্লবে স্বৈরাচার পতনের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ ঘটে। দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর দলটির কার্যক্রম দ্রুতই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় চলে আসে। এমন প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুনরায় সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।
এর অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষদিকে আমেরিকা ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত আমিরসহ একটি প্রতিনিধিদল।দলটির আমির এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ-সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রধান ডা. শফিকুর রহমান এই প্রসঙ্গে আমার দেশকে বলেছেন, "আমরা সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই। আমরা সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে চলতে চাই।"আওয়ামী সরকারের পতনের দিন থেকেই জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও সারা দেশের কার্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংস্কারকাজ শেষে গত সেপ্টেম্বরে নতুনরূপে চালু হওয়ার পরপরই এখানে বিদেশি কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক: গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রথম সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে। এরপর একের পর এক কূটনীতিকদের আগমন ঘটে জামায়াত কার্যালয়ে।
সফরে শীর্ষ নেতৃত্ব: সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। এছাড়া সংশ্লিষ্টদের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশ সফর করছেন দলের শীর্ষ নেতারা।সর্বশেষ বৈঠক: সর্বশেষ গত বুধবার জামায়াত আমিরের সঙ্গে তার বসুন্ধরা কার্যালয়ে আলাদা সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন ব্রাজিল ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত।
দলীয় সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, পাকিস্তান, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, কানাডা, ফ্রান্স, তুরস্ক, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিলসহ ৪০টিরও বেশি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে।কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে দলের নেতারা মূলত আওয়ামী আমলে তাদের ওপর যেসব নির্যাতন করা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরছেন।
এছাড়া জামায়াতের নীতি-কৌশল, রাজনৈতিক অবস্থান, দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে দলের সম্পর্ক তৈরিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এসব বৈঠকে দলের নারী নেতাদেরও রাখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ভারতীয় দূতাবাস বা দেশটির কোনো প্রতিনিধিদলের সঙ্গে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।দলটির পরিকল্পনা হলো, পর্যায়ক্রমে বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনরায় পেলে সরকার গঠনেরও মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন