রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,

শাপলা প্রতীক বরাদ্দ প্রশ্নে এনসিপির ব্যাখ্যা 

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৫, ০৬:৪০ পিএম

শাপলা প্রতীক বরাদ্দ প্রশ্নে এনসিপির ব্যাখ্যা 

ছবি - সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রার্থিত নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা’ বাতিল করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া যুক্তি ‘শাপলা জাতীয় প্রতীক’—আইনানুগভাবে সঠিক নয়।শুক্রবার (০৩ অক্টোবর) দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের বরাতে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিস্তারিত ব্যাখ্যাটি তুলে ধরেন।

এনসিপি ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ইসি যখন নির্বাচনী প্রতীক তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়, তখন এনসিপি সেখানে শাপলা প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সক্রিয় হয়।

আশ্বাসের ভিত্তিতে আবেদন: ০৪ জুন এনসিপির প্রতিনিধিদল ইসির কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে এবং চূড়ান্ত তালিকায় ‘শাপলা’ প্রতীক থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত হয়। এরপর ২২ জুন এনসিপি নিবন্ধনের আবেদন দাখিল করার সময় দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ সংরক্ষণের আবেদন জানায়।

জনসংযোগ: আবেদন করার পর পরই সারা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এনসিপির প্রতীক হিসেবে শাপলাকে নিয়ে এক অভূতপূর্ব সম্পর্ক স্থাপিত হয়। জুলাই মাসে দেশজুড়ে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতেও জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে শাপলা সংগ্রহ করে এই প্রতীককে আপন করে নেয়।

কিন্তু ০৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এনসিপি জানতে পারে যে, ‘শাপলা’ জাতীয় প্রতীক হওয়ায় এটিকে নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে তফসিলভুক্ত না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।এরপর ১৩ জুলাই এনসিপির প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন এবং একটি লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তাদের আইনি অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

এনসিপি স্পষ্ট জানায়, শাপলাকে জাতীয় প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের প্রদত্ত ব্যাখ্যা আইনানুগভাবে সঠিক নয় এবং এই বিষয়ে তাদের গৃহীত অবস্থানের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।দলটি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪(৩), The Bangladesh National Anthem, Flag and Emblem Order, 1972-এর ধারা ৪ এবং Bangladesh National Emblem Rules, 1972-এর বিধি ৩ অনুযায়ী যুক্তি দেয়:

জাতীয় প্রতীক সুনির্দিষ্ট: জাতীয় প্রতীকের নকশা এবং রঙ ১৯৭২ সালের অর্ডারের ৩য় তফসিল ও বিধিমালার পরিশিষ্ট-ক দ্বারা সুনির্দিষ্ট। জাতীয় প্রতীকটি আসলে লালচে এবং হলুদ রঙের যুগল বৃত্তের ভেতরে থাকা পানির ওপর ভাসমান শাপলা, দুপাশে দুটি ধানের শীষ, ওপরে তিনটি সংযুক্ত পাট পাতা এবং চারটি তারকার সম্মিলিত রূপ।

উপাদান মাত্র: এনসিপির মতে, শাপলা জাতীয় প্রতীকের চারটি স্বতন্ত্র উপাদানের একটি মাত্র উপাদান, পুরো প্রতীক নয়।আইনি বাধা নেই: যেহেতু জাতীয় প্রতীকের নকশা ও রঙ সুনির্দিষ্ট, তাই এককভাবে ‘শাপলা’ প্রতীকটি তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ দিতে কোনো আইনগত বাধা নেই।এনসিপি মনে করে, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, তাদের এই বিস্তারিত ব্যাখ্যার পর নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনে কিনা।