শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

নতুন বছরে মুমিনের করণীয় ও বর্জনীয়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

নতুন বছরে মুমিনের করণীয় ও বর্জনীয়

মুমিনের নতুন বছর

আজ ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের সূচনালগ্নে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ। তবে একজন মুমিনের কাছে বছরের পরিবর্তন কেবল একটি সাংস্কৃতিক উৎসব নয়, বরং এটি নিজের ইবাদত, আখলাক ও জীবনধারা নিয়ে আত্মপর্যালোচনার এক অনন্য সুযোগ। ইসলাম যেহেতু একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, তাই সময়ের প্রতিটি মুহূর্তকে সঠিক পথে ব্যয় করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। 

নতুন বছরে একজন বিশ্বাসী বান্দার জন্য কিছু কাজ করা যেমন আবশ্যক, তেমনি কিছু বিষয় বর্জন করাও ঈমানের দাবি।নতুন বছরের শুরুতে একজন মুমিনের প্রথম ও প্রধান কাজ হওয়া উচিত আল্লাহর প্রতি তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা। 

গত বছরের ভুলত্রুটি ও গুনাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করার মাধ্যমে বছরটি শুরু করলে তাতে বরকত আসে। সূরা আল-ফুরকানে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে সুন্দর প্রার্থনার কথা শিখিয়েছেন। এর পাশাপাশি নিজেকে ইতিবাচকভাবে বদলানোর দৃঢ় সংকল্প নেওয়া জরুরি। 

আপনার আখলাক, আচার-আচরণ ও জীবনযাপনের পদ্ধতিতে ইসলামের প্রতিফলন ঘটানোর পরিকল্পনা করার এটাই সঠিক সময়।সময়ের মূল্য দেওয়া ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। নবীজি (স.) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সুস্থতা এবং সময়—এই দুটি নেয়ামতের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত থাকে। নতুন বছরে সময়ের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নামাজ, রোজা, দান-সদকা ও অন্যান্য ইবাদত বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা উচিত। একই সাথে পরিবার ও সমাজের প্রতি নিজের দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালনে আরও যত্নশীল হতে হবে। বিশেষ করে পরিবারকে ইসলামের পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে একজন মুমিনের দায়িত্ব অনেক বেশি।

অন্যদিকে, নতুন বছরের আনন্দ উদ্‌যাপনের নামে অশ্লীলতা ও অবাধ মেলামেশায় লিপ্ত হওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পার্টি, মাদকাসক্তি বা এমন কোনো উৎসব যা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক, তা একজন মুমিনের জন্য বর্জনীয়। ইসলামে নববর্ষ উদ্‌যাপনকে কোনো ধর্মীয় উৎসব হিসেবে গ্রহণ করার অবকাশ নেই। যদি একে নিছক উৎসব হিসেবে ধর্মের সাথে গুলিয়ে ফেলা হয়, তবে তা শিরক বা বিদআতের পর্যায়ে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিলাসিতা বা অপ্রয়োজনীয় খরচের মাধ্যমে সম্পদের অপচয় করা শয়তানের কাজ হিসেবে গণ্য হয়। নতুন বছরে উৎসবের নামে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে তা আর্তমানবতার সেবায় বা দান-খয়রাতে ব্যয় করা অধিক সওয়াবের কাজ। এছাড়া নিজের উন্নতির প্রচেষ্টায় অহংকার বা আত্মতুষ্টি যেন স্থান না পায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। বিগত বছরের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা না নিয়ে পুনরায় একই পথে চলা একজন মুমিনের জন্য অনুচিত। আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সংকল্পই হোক নতুন বছরের মূল লক্ষ্য।