শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

দোয়া কবুল হওয়া নিয়ে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম

দোয়া কবুল হওয়া নিয়ে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

দোয়া ও ধৈর্যের মাহাত্ম্য

মানুষের জীবনের দুঃখ, দুর্দশা এবং কঠিন সময় থেকে মুক্তির অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হলো দোয়া। দোয়ার মাধ্যমেই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তিত হয় এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব হয়। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, অনেক সময় আল্লাহর কাছে বিনীত নিবেদনের মাধ্যমে অসম্ভব কাজও সহজ হয়ে যায়। তবে আমাদের অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কাঙ্ক্ষিত কোনো বস্তু বা স্বপ্ন পূরণের জন্য দোয়া করার পর যখন ফলাফল পাওয়া যায় না, তখন আমরা দ্রুত হতাশ হয়ে পড়ি। 

অনেক সময় অভিযোগ বা অনুযোগ নিয়ে আল্লাহর ওপর অভিমান করে দোয়া করা ছেড়ে দিই। অথচ দোয়া কবুল হওয়া সম্পর্কে এই নেতিবাচক ধারণার প্রধান কারণ হলো আমাদের ধৈর্যের অভাব।

মহান আল্লাহ কেবল আমাদের দোয়া করার নির্দেশই দেননি, বরং দোয়ার পাশাপাশি ধৈর্য ধারণ করার ব্যাপারেও কঠোর তাগিদ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মুমিনদের উচিত ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। 

কারণ আল্লাহ সর্বদা ধৈর্যশীলদের সঙ্গেই থাকেন। অর্থাৎ, আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য পেতে হলে কেবল হাত তুলে প্রার্থনা করলেই হবে না, বরং ফলাফল আসা পর্যন্ত পূর্ণ আস্থা ও ধৈর্য বজায় রাখা অপরিহার্য। দোয়ার উত্তর না পেয়ে নিজেকে হীন ভাবা বা আল্লাহ ডাক শুনছেন না—এমন ধারণা করা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী।আল্লাহর নৈকট্য ও সুপথ পেতে হলে তাঁর প্রতি সবসময় সুধারণা রাখা জরুরি। পবিত্র কোরআনের অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি তাঁর বান্দাদের খুব কাছেই রয়েছেন এবং যখনই কেউ তাঁকে ডাকে, তিনি তাতে সাড়া দেন।

 

তবে এক্ষেত্রে বান্দার পক্ষ থেকেও বিশ্বাস ও তাঁর নির্দেশের প্রতি আনুগত্য থাকা প্রয়োজন। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ তাঁর বান্দার সাথে ঠিক তেমন আচরণই করেন, যেমনটি বান্দা তাঁর প্রতি ধারণা পোষণ করে। তাই আমরা যদি বিশ্বাস রাখি যে আল্লাহ আমাদের দোয়া শুনছেন এবং এর বিনিময়ে ভালো কিছু দেবেন, তবে বাস্তবেও সেটিই ঘটে।

দোয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আরও একটি বড় ভুল হলো দনিয়ার ভোগ-বিলাসের মোহে মত্ত হয়ে কেবল কাঙ্ক্ষিত বস্তুটিকেই একমাত্র লক্ষ্য মনে করা। আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে কোনটি আমাদের জন্য প্রকৃত অর্থে কল্যাণকর আর কোনটি অকল্যাণকর। অনেক সময় যা আমরা পছন্দ করি, তা হয়তো আমাদের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনতে পারে, যা কেবল আল্লাহই ভালো জানেন। এই সত্যটি অনুধাবন করা জরুরি যে, দোয়ার পর যদি কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি না পাওয়া যায়, তবে ধরে নিতে হবে তা আমাদের জন্য সেই সময়ে সঠিক ছিল না। আল্লাহর ওপর এই অটল বিশ্বাসই একজন মুমিনের মনের শান্তি নিশ্চিত করে।

সবচেয়ে বড় সুসংবাদটি হলো, কোনো দোয়াই বিফলে যায় না। যদি দুনিয়াতে হাজারো আকুতির পরেও কাঙ্ক্ষিত দোয়ার সরাসরি উত্তর না পাওয়া যায়, তবে আল্লাহ আখিরাতে এর বিনিময়ে উত্তম প্রতিদান দেবেন। রাসুল (সা.)-এর এক চমৎকার হাদিসে এর ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। শেষ বিচারের দিন এক বান্দার সামনে পুরস্কারের বিশাল পাহাড় দেখে সে নিজেই বিস্মিত হবে। তখন তাকে জানানো হবে যে, দুনিয়ায় করা যে দোয়াগুলোর উত্তর আল্লাহ সরাসরি দেননি, আজ তার বদলে এই বিশাল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সেই মুহূর্তে বান্দা আফসোস করে বলবে যে, দনিয়ায় যদি তার একটি দোয়াও কবুল না হতো, তবে আজ সে আরও কত বেশি পুরস্কার পেত।

তাই দোয়ার ফলাফল পেতে দেরি হলে অস্থির হওয়া বা নিরাশ হওয়া কোনোভাবেই সঠিক নয়। আমাদের উচিত প্রতিটি দোয়াকে পরকালের জন্য সঞ্চয় হিসেবে দেখা। অনেক সময় আমাদের চাওয়া বস্তুটির চেয়ে আল্লাহ হয়তো আমাদের কোনো বড় বিপদ কাটিয়ে দিচ্ছেন অথবা আমাদের অজান্তেই অন্য কোনো উত্তম ব্যবস্থা করছেন। দোয়ার এই নিগূঢ় রহস্যটি অনুধাবন করে ধৈর্যের সঙ্গে প্রার্থনা চালিয়ে যাওয়াই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর কাছে আমাদের প্রত্যেকের প্রার্থনা যেন ধৈর্যের সঙ্গে কবুল হয় এবং আমরা যেন তাঁর সিদ্ধান্তে সর্বদা সন্তুষ্ট থাকতে পারি, এটিই হোক আমাদের কাম্য।