এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল সময়। এটি যেমন মাতৃত্বের পরম আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি এই সময়টি শারীরিক ও মানসিকভাবে নারীর জন্য বেশ কষ্টকরও বটে। পবিত্র কুরআনের সুরা লুকমানে মহান আল্লাহ তায়ালা এই অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানিয়েছেন যে, মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য প্রধান কর্তব্য হলো মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং তাঁর কাছেই সকল প্রকার সাহায্য ও সুরক্ষা প্রার্থনা করা।অনেকেই জানতে চান গর্ভাবস্থায় বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট নামাজ বা দোয়া আছে কি না।
জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, পবিত্র কুরআন বা হাদিসে কেবল গর্ভবতী মায়েদের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট আমলের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে এই সময়ের শারীরিক ধকল ও প্রসবকালীন কষ্ট লাঘব এবং অনাগত সন্তানের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে সাধারণ দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সময়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং সর্বদা আল্লাহর স্মরণে থাকাই হলো একজন আদর্শ মায়ের প্রধান গুণ।বিপদ ও কষ্ট মুক্তির জন্য কিছু আমল বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো দোয়ায়ে ইউনুস তথা `লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায জ্বলিমিন` পাঠ করা। হযরত ইউনুস (আ.) এই দোয়ার মাধ্যমেই মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন এবং আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে এর মাধ্যমে মুমিনদের সকল কষ্ট দূর হবে। এছাড়া তিরমিজি শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী `ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম` বাক্যটি বেশি বেশি পড়ার নির্দেশ রয়েছে, যা কঠিন পরিস্থিতিকে সহজ করে দেয়। পাশাপাশি দরুদ শরিফ ও ইস্তেগফার পাঠ করলে আত্মিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়।
নেক সন্তান লাভের জন্য সন্তান পৃথিবীতে আসার আগেই বাবা-মায়ের উচিত আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রার্থনা করা। এই ক্ষেত্রে সুরা ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতটি অত্যন্ত কার্যকর যা নিয়মিত পাঠ করা যেতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাবে অনেক গর্ভবতী নারী তাদের গর্ভাবস্থার ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন, যা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গর্হিত কাজ হিসেবে বিবেচিত। এমন কর্মকাণ্ড সন্তানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং পরিবারের আত্মিকতাকে ধ্বংস করে। তাই এসব লোকদেখানো আয়োজন থেকে বিরত থেকে আল্লাহর প্রতি বিনয় প্রকাশ করা জরুরি।
দোয়া কবুলের বিশেষ সময়গুলোতে একজন গর্ভবতী মা নিজের এবং সন্তানের তৌফিক কামনা করতে পারেন। জুমার দিন আসরের পরের সময়, শেষ রাত বা তাহাজ্জুদের সময়, বৃষ্টির সময় এবং প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর দোয়া করার সুবর্ণ সুযোগ। অনাগত সন্তান যেন নেককার ও সুস্থ হিসেবে পৃথিবীতে আসে এবং প্রসবের সময়টি যেন সহজ হয়, সেই প্রার্থনা করা প্রতিটি মা-বাবার একান্ত দায়িত্ব। ইসলামি স্কলারদের মতে, গর্ভাবস্থায় যত বেশি ইবাদত ও জিকিরে সময় কাটানো যাবে, তার ইতিবাচক প্রভাব সন্তানের ওপর ততটাই দৃশ্যমান হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন