মে ২২, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা রক্ষা এবং সমাজে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে নারীর প্রতি অপরাধে ইসলামের কঠিন শাস্তি ও কঠোর আইনি বিধান রয়েছে। ইসলামে মানুষের জানমাল, পবিত্রতা ও নারী অধিকার রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো দুর্বল মানুষের ওপর জুলুম, নির্যাতন বা যৌন সহিংসতা চালানো কেবল সামাজিক অপরাধই নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্যতম পাপ।পবিত্র কোরআনে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সুরা মায়েদার ৩৩ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, যারা সমাজে অনাচার ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে বেড়ায়, তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ড, ক্রুশবিদ্ধ করা বা বিপরীত দিক থেকে হাত-পা কেটে ফেলার মতো কঠিন শাস্তির উল্লেখ রয়েছে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে উকল বা উরাইনা গোত্রের কিছু লোক মদিনার বাইরে সরকারি রাখালকে হত্যা করে উট লুট করার পর তাদের বিরুদ্ধে হাত-পা কেটে ফেলার মতো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, তারা হত্যা, চুরি ও ঈমান আনার পর কুফরি করার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল।এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজে অপরাধ প্রবণতা পুরোপুরি নির্মূল করা।
হাদিসের অন্যান্য ক্ষেত্রেও দুর্বল বালিকার ওপর সহিংসতাকারীর বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। নাসায়ি শরিফের এক বর্ণনায় দেখা যায়, জনৈক ব্যক্তি এক বালিকার অলংকার কেড়ে নিয়ে তার মাথা চূর্ণ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রাসুলুল্লাহর (সা.) আদেশে তাকেও একই পদ্ধতিতে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। ব্যভিচার ও ডাকাতির মতো অপরাধগুলোতে ইসলামে যে কঠিন বিধান রাখা হয়েছে, তা অপরাধীদের এই পাপ কাজ থেকে দূরে রাখতে বাধ্য করে। বর্তমান যুগেও প্রকৃত অপরাধীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক রাষ্ট্রীয় শাস্তির ব্যবস্থার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিকতা ও সঠিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন