বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজনে অনিশ্চয়তা, যা বলছে বিসিসিআই

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম

ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজনে অনিশ্চয়তা, যা বলছে বিসিসিআই

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ভারতে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে এই বৈশ্বিক আসর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আয়োজকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে ইডেন গার্ডেন্সে সেমিফাইনালসহ মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রভাবশালী দলগুলো এমন পরিস্থিতিতে কলকাতায় খেলতে আপত্তির কথা জানিয়েছে। তবে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক বোর্ড (বিসিসিআই) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ এবারই প্রথম নয়, এটি রাজ্যে অষ্টমবারের মতো শনাক্ত হয়েছে। সম্প্রতি বারাসাত এলাকায় দুজন নার্সের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়ার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ বলাটা হবে অতিরঞ্জিত। 

এটি একটি স্থানীয় ও নিয়ন্ত্রিত প্রাদুর্ভাব। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে এবং নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) এই মুহূর্তে ভ্রমণ বা বাণিজ্যে কোনো বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজনীয়তা দেখছে না।এদিকে, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার আপত্তির খবরের প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই-এর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ‘ইনসাইডস্পোর্ট’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। 

তিনি বলেন, “নিপাহ ভাইরাসের যে রোগী শনাক্ত হয়েছে তা ইডেন গার্ডেন্স স্টেডিয়াম থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। ফলে ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো আতঙ্ক পুরোপুরি ভিত্তিহীন।” বিসিসিআই আত্মবিশ্বাসী যে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই কলকাতায় সবকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, কলকাতা থেকে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তাব এই মুহূর্তে টেবিলে নেই। যদি সরকার বা স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে ভিন্ন কোনো জরুরি নির্দেশনা দেয়, তবেই কেবল ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত ৭ ফেব্রুয়ারির উদ্বোধনী আসর এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য ইডেন গার্ডেন্স সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিসিসিআই এবং আইসিসি যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে যাতে করে নিপাহ আতঙ্ক বিশ্বকাপের আমেজে কোনো বিঘ্ন ঘটাতে না পারে।