এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ গড়পেটা বা ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া দেখা দিয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠার পর ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতি দমন শাখা। এবারের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি। ‘
দ্য ফিফথ এস্টেট’ নামক একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের তদন্তমূলক তথ্যচিত্রে দাবি করা হচ্ছে যে এই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের নেপথ্যে রয়েছে কানাডার কুখ্যাত বিষ্ণোই গ্যাং। তাদের হুমকি ও প্রভাবের কারণেই মূলত কানাডার কিছু ম্যাচের ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্য ও ‘হুইসেলব্লোয়ার’দের ভাষ্য অনুযায়ী কানাডা ক্রিকেট বোর্ড এবং তাদের খেলোয়াড়দের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ তৈরি করেছিল এই গ্যাং। তথ্যচিত্রটিতে দাবি করা হয়েছে যে কানাডার সারে অঞ্চলের একটি রেস্তোরাঁকে তারা নিয়মিত গোপন বৈঠকের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত।
সেখানে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যদের সাথে কানাডার বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের নীল নকশা তৈরি থেকে শুরু করে খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারকে হুমকি দেওয়ার মতো যাবতীয় পরিকল্পনা সেখান থেকেই করা হতো বলে জানা গেছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কয়েকজন খেলোয়াড়কে যেন জাতীয় দলে রাখা হয় সেজন্য ক্রিকেট কর্মকর্তাদের নিয়মিত চাপ দেওয়া হতো। কর্মকর্তাদের কেউ যদি সেই আদেশ মানতে রাজি না হতেন তবে তাদের ওপর নেমে আসত প্রাণনাশের হুমকি।
পুরো কানাডা ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যার ফলে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাননি। এমনকি এক বোর্ড কর্মকর্তার বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনার পর সেই আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ‘দ্য ফিফথ এস্টেট’ তাদের তথ্যচিত্রে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের নাম প্রকাশ না করলেও ঘটনার গভীরতা যে অনেক বেশি তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার একটি ওভার এখন আইসিসির গোয়েন্দাদের আতসীকাঁচের নিচে রয়েছে। ওই ম্যাচের পঞ্চম ওভারের শুরুতে তিনি পরপর নো বল ও ওয়াইড করেন এবং সেই ওভারে মোট ১৫ রান দেন। উল্লেখ্য যে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ আগে তাকে হুট করে অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়েছিল যা নিয়ে আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল।
এছাড়া কানাডার সাবেক কোচ কুররাম চোহানের একটি ফাঁস হওয়া অডিও বার্তা নিয়েও এখন তোলপাড় চলছে। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায় যে এক প্রভাবশালী বোর্ড সদস্য তাকে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে নেওয়ার জন্য অনবরত চাপ দিচ্ছেন।
চাদাবাজি, খুন এবং অস্ত্র পাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধের জন্য কুখ্যাত এই বিষ্ণোই গ্যাং দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ। এই গোষ্ঠীর মূল পান্ডা লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে ভারতের সবরমতী জেলে বন্দি থাকলেও কানাডাকে ঘাঁটি বানিয়ে তিনি তার সাম্রাজ্য পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বলিউড তারকা সালমান খানকে হুমকি দেওয়া থেকে শুরু করে সিধু মুসেওয়ালা ও বাবা সিদ্দিক খুনের নেপথ্যেও এই বাহিনীর নাম জড়িয়েছে। কানাডা সরকার ইতিপূর্বেই এই বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এখন ক্রিকেট বিশ্বেও তাদের এই নেতিবাচক প্রভাব আইসিসিকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন তদন্ত শেষে এই ফিক্সিং চক্রের আরও অনেক বড় রাঘব বোয়ালদের নাম বেরিয়ে আসতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন