বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা মাঠের লড়াইয়ে ইতিহাসের যুদ্ধের ছায়া

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১৩, ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা মাঠের লড়াইয়ে ইতিহাসের যুদ্ধের ছায়া

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার লড়াই কখনোই শুধু ৯০ মিনিটের ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এই দুই দলের প্রতিটি মুখোমুখি লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, রাজনীতি, জাতীয় আবেগ এবং চার দশকেরও বেশি পুরোনো ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি। তাই এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও যখন তারা মুখোমুখি হচ্ছে, তখন বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে সেই পুরোনো যুদ্ধের আবহ।আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া এই লড়াই ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি ইতিহাসের আরেকটি উত্তপ্ত অধ্যায়।

এই বৈরিতার সবচেয়ে বড় ভিত্তি ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যা আর্জেন্টিনায় লাস মালভিনাস নামে পরিচিত, তার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল দুই দেশ। যুদ্ধে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। ব্রিটেন জয়ী হলেও পরাজয়ের সেই ক্ষত আজও আর্জেন্টিনার জাতীয় স্মৃতিতে অমলিন।

ফুটবলীয় বৈরিতার সূচনা আরও আগে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হারের ম্যাচটি আর্জেন্টিনায় আজও শতাব্দীর চুরি হিসেবে পরিচিত। সেই ম্যাচে অধিনায়ক আন্তোনিও রাত্তিনের বিতর্কিত লাল কার্ড ও মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত পর্ব। অনেকের মতে, এই ঘটনার পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলে লাল ও হলুদ কার্ড চালুর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়।

তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে যায় ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ। ফকল্যান্ড যুদ্ধের মাত্র চার বছর পর ডিয়েগো ম্যারাডোনা বিতর্কিত হ্যান্ড অব গড গোলটি করেন। চার মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে পাঁচজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করেন শতাব্দীর সেরা গোল। ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, গোলটি ছিল ফকল্যান্ড যুদ্ধে নিহতদের জন্য প্রতীকী প্রতিশোধ।

ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রভাব আজও ফুটবল সংস্কৃতিতে স্পষ্ট। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের গানে নিয়মিত উঠে আসে মালভিনাস যুদ্ধের কথা। চলতি বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডবিরোধী স্লোগান ও গান গাইতে দেখা গেছে আর্জেন্টাইনদের। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের মুখোমুখি লড়াই শুরুর আগেই তাই শুরু হয়ে গেছে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। সব মিলিয়ে আটলান্টার এই সেমিফাইনাল বিশ্বকাপের সবচেয়ে আবেগঘন ও বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি হতে যাচ্ছে।