জুলাই ২১, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে ঘটে যাওয়া মারামারির ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। গত ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টাইনদের এক গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল স্পেন। তবে খেলার সমাপ্তির পর দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার জেরে এখন কঠোর শাস্তির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর।
সংবাদমাধ্যম ও ম্যাচ প্রতিবেদনের তথ্যে জানা যায়, ফাইনাল ম্যাচের নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের লড়াই শেষে মাঠের পরিবেশ হঠাৎ রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় হতাশায় বসে পড়েন, আর স্পেনের খেলোয়াড়রা উল্লাসে ফেটে পড়েন। স্পেনের বদলি খেলোয়াড় রদ্রি উদযাপনের সময় নাহুয়েল মোলিনার পাশ দিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে দুই ডিফেন্ডারের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দ্বন্দ্ব অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরতে দেখা যায়। সতীর্থদের সহায়তায় এগিয়ে আসা গাভি ও থিয়াগো আলমাদার মধ্যেও ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে উভয় দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে স্পেনের মিডফিল্ডার দানি ওলমোর দিকে হাত বাড়াতে দেখা যায়। প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও মাঠের ভেতরের উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।শৃঙ্খলাভঙ্গের এই ঘটনা ফিফা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের সুনির্দিষ্ট অনুচ্ছেদের আওতায় এই তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি ইতিমধ্যে একজন ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে, যিনি ম্যাচ-পরবর্তী শৃঙ্খলাভঙ্গের সার্বিক বিষয়গুলো মূল্যায়ন করবেন। নিয়ম অনুযায়ী, সহিংস আচরণ এবং ফেয়ার প্লে নীতির লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট জাতীয় ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর আগে পারেদেসকে লাল কার্ড দেখতে হয়েছিল, যা এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি পরাজয় মেনে নেওয়ার কথা বললেও, মাঠের এই আচরণ নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট মন্তব্য করেছেন যে মাঠে একমাত্র মর্যাদাপূর্ণ আচরণ দেখিয়েছেন কেবল লিওনেল মেসি। অন্যদিকে, সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার পারেদেসের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ফিফার শৃঙ্খলামূলক বিধিমালা অনুযায়ী অতীতেও বিভিন্ন দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের ঘটনাও রয়েছে।
তদন্ত শেষে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং কোন কোন খেলোয়াড় শাস্তির আওতায় আসেন, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে। এই তদন্তের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন