সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১২:১০ পিএম
ফিফা আসিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টের শুরুটা মোটেও ইতিবাচক হয়নি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের। কুয়ালালামপুরে ৩-০ গোলের বড় পরাজয়ের পর টুর্নামেন্টের পরের রাউন্ডে যাওয়ার সমীকরণ লাল-সবুজ জার্সিধারীদের জন্য অনেকটাই জটিল হয়ে পড়েছে। দলে হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো তারকাদের সঙ্গে প্রবাসী ফুটবলারদের উপস্থিতি শক্তির গভীরতা বাড়ালেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার কাঙ্ক্ষিত প্রতিফলন ঘটেনি। পরবর্তী রাউন্ডের পথ সুগম করতে এখন সামনের দুটি ম্যাচই হয়ে উঠেছে নকআউটের সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচে বাংলাদেশকে লড়তে হবে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। ফিফা আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ের হিসাবে এই দুটি দলই বাংলাদেশের চেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় লড়াইটি বেশ কঠিন হবে। তবে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হারের হতাশা পেছনে ফেলে দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি এখন পুরো মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন আসন্ন এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর। তিনি জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার ম্যাচ থেকে দলের অনেক কিছু শেখার আছে এবং খেলোয়াড়রা কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের ভুল শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর পর্যাপ্ত ম্যাচ অনুশীলনের অভাবকেই উদ্বোধনী ব্যর্থতার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রধান কোচ।
কোচ ডুলির ভাষ্য অনুযায়ী, আসিয়ান কাপের আগে গত জুন মাসে সান মারিনোর বিপক্ষে শেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর ঘরোয়া লিগের কোনো খেলা না থাকায় ফুটবলাররা পর্যাপ্ত ম্যাচ ফিটনেস ছাড়াই মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হয়েছিল। প্রথম ম্যাচে বড় পরাজয় সত্ত্বেও পুরো ম্যাচজুড়ে খেলোয়াড়দের ইতিবাচক চেষ্টার মূল্যায়ন করে তাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল।
সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হওয়ার আগে হামজা-শমিতদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে অতীত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিসংখ্যান। গত এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে এই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেই দারুণ লড়াইয়ের নজির গড়েছিল লাল-সবুজের দল। ২০২৫ সালের ১০ জুন ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলে হারের ম্যাচে বাংলাদেশ একাধিক নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করেও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় পূর্ণ পয়েন্ট হাতছাড়া করেছিল। পরবর্তীতে গত মার্চে সিঙ্গাপুরের মাটিতে ফিরতি ম্যাচে বাংলাদেশ দল ১-০ গোলে পরাজিত হলেও মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দারুণ প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবল উপহার দিয়েছিল। অতীতের সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে এবার আসিয়ান কাপের মঞ্চে জয় তুলে নিতে উন্মুখ হয়ে আছেন ফুটবলাররা।
এদিকে গ্রুপ পর্বের শেষ লড়াইয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে দলের স্বপ্ন আরও বড়। ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে ঐতিহাসিক নকআউট পর্বে খেলার সুখস্মৃতি রয়েছে বাংলাদেশের। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে অতীতে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয়ের ঐতিহাসিক রেকর্ডও রয়েছে জাতীয় দলের। ফলে অতীত সাফল্যের অনুপ্রেরণা নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার বাধা পেরোতে চায় দলটি। সামনের দুই ম্যাচে ইতিবাচক ফলাফল নিশ্চিত করতে না পারলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের পথ ধরতে হবে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের।
দলের তারকা ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন স্পষ্ট করেছেন যে তারা কোনো অবস্থাতেই টুর্নামেন্ট থেকে পিছিয়ে আসার মানসিকতায় নেই। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, দল এখন পরবর্তী ম্যাচ জয়ের ছক নিয়েই ভাবছে। তারা টুর্নামেন্টে স্রেফ অংশ নিতে আসেনি, বরং শিরোপা জয়ের মানসিকতা নিয়েই মাঠে নেমেছে এবং প্রতিটি ম্যাচ জয়ই এখন তাদের একমাত্র সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন