অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ০৬:৩৫ পিএম
ঢাকার ধামরাই উপজেলার বান্নল গ্রামের কলেজের প্রদর্শক শফিকুল ইসলাম ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে জমি ছাড়াই বস্তায় আদা চাষ করে লাখ টাকা আয় করছেন। প্রথমে শখের বাগান হিসেবে শুরু করলেও এখন এটি বাণিজ্যিক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
তিনি প্রথমে বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্র থেকে লিফলেট সংগ্রহ করেন এবং পরে ধামরাই উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন। শফিকুল গত বছর মাত্র ৬০০ বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন এবং ভালো ফলন পাওয়ায় এ বছর তা সাড়ে তিন হাজার বস্তায় উন্নীত করেছেন। বস্তায় আদা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি জায়গা সাশ্রয়ী, সহজে স্থানান্তরযোগ্য এবং ঝুঁকি কম, বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অতিবৃষ্টির সময় বস্তাগুলো দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়।
তার এই সফলতা দেখে আশপাশের কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং শফিকুলের কাছ থেকে শিখে তারাও বস্তায় আদা চাষ শুরু করছেন। শফিকুল জানান, দেশে আদার চাষ কম হওয়ায় আমদানি করতে হয়, এতে দেশের টাকা বাইরে চলে যায়; এই চাষ বৃদ্ধি পেলে দেশের টাকা দেশেই থাকবে। প্রতি বস্তায় ২০ থেকে ২৫ কেজি বেলে ও দোআঁশ মাটির সঙ্গে জৈব সার, সামান্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মেশানো হয় এবং পরিচর্যার মাধ্যমে ঘাস ও ময়লা পরিষ্কার করা হয়।
প্রতিটি বস্তা প্রস্তুত করতে খরচ হয় মাত্র ৪০ থেকে ৫০ টাকা, আর ফলন হিসেবে প্রতি বস্তায় দেড় থেকে দুই কেজি আদা পাওয়া যায়, যা বাজারে কয়েক গুণ দামে বিক্রি হয়। এই প্রযুক্তি এখন গ্রাম-বাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে; বাড়ির উঠান, পুকুরপাড় বা ফাঁকা জমিতে অনেকেই বস্তায় আদা চাষ করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, এই নতুন প্রযুক্তি মাঠে সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং এ বছর প্রায় ৪০০-এর বেশি বস্তায় আদা চাষ হয়েছে। এমনকি গৃহিণীরাও নিজেদের চাহিদা মেটাতে টব বা বস্তায় আদা চাষ করছেন। অল্প পুঁজি, সামান্য পরিশ্রম আর উদ্ভাবনী চিন্তা শফিকুল ইসলামের জীবন বদলে দিয়েছে, যা হাজারো তরুণের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন