এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইল চক্রের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত কথিত ‘লেডি ডন’ লাইলিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ এপ্রিল) রাতে দেবিদ্বার থানা পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি করা আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাইলির নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে বিত্তবান ব্যক্তিদের টার্গেট করে আসছিল। চক্রটি প্রথমে সুসম্পর্ক বা কোনো বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ভুক্তভোগীদের নির্দিষ্ট কোনো ভাড়া বাসায় ডেকে নিত।
সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হতো। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং ধর্ষণ মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।
এই চক্রের ফাঁদে পড়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ডজনখানেক নেতাসহ অসংখ্য ব্যক্তি সর্বস্বান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।সবশেষ এই চক্রের শিকারে পরিণত হন জাফরগঞ্জ গার্লস স্কুলের এক শিক্ষক। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকের অভিযোগ অনুযায়ী, পাওনা টাকা সংক্রান্ত একটি বিরোধ মীমাংসার কথা বলে তাঁকে দেবিদ্বার পৌর এলাকার একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে লাইলি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে জিম্মি করে মারধর করেন এবং ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে তাঁকে বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয় এবং ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে ওই শিক্ষক তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে আরও ১ লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি।
নির্যাতনের এখানেই শেষ নয়, ওই শিক্ষকের কাছ থেকে জোরপূর্বক ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়। চক্রটি আগামী ১৫ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে আরও ৫ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য তাঁকে সময় বেঁধে দেয়। অন্যথায় ভিডিও ফাঁস করার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে দেবিদ্বার থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে এবং ঘটনার মূলহোতা লাইলিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তবে অভিযানের সময় চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘লেডি ডন’ হিসেবে পরিচিত লাইলির এই চক্রের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে। তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ঘটনার গভীরতা বিবেচনায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হচ্ছে। এই চক্রের হাত থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন