রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

জমি লিখে না দেওয়ায় মায়ের ঘরে আগুন দিল ছেলে

মো. শহিদুল ইসলাম

এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

জমি লিখে না দেওয়ায় মায়ের ঘরে আগুন দিল ছেলে

আগুনে পুড়ে ছাই বৃদ্ধার ঘর ছবি-দিনাজপুর টিভি

নীলফামারীতে পৈতৃক জমি লিখে না দেওয়ায় নিজের বৃদ্ধ মায়ের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নুর আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিকেলে নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারি ইউনিয়নের মোজামের মোড় এলাকায় এ বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত নুর আলম ওই এলাকার মৃত জয়নাল হোসেন ও নুরজাহান বেগমের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত নুর আলম দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। তিনি জুয়ার টাকার যোগান দিতে প্রায়ই বাড়ির বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র বিক্রি করে দিতেন। 

এর ধারাবাহিকতায় বাবার রেখে যাওয়া মা ও বোনের মালিকানাধীন জমিও নিজের নামে লিখে নেওয়ার জন্য দীর্ঘকাল ধরে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। আজ মঙ্গলবার সকালেও তিনি তার মা ও বোনকে জমি লিখে দেওয়ার জন্য পুনরায় চাপ দেন।

সকালে জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নুরজাহান বেগমের সঙ্গে তাঁর ছেলের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে বিকেলের দিকে নুর আলম বিক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মায়ের থাকার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ঘরের ভেতর থাকা যাবতীয় আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন জ্বলতে দেখে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা এসে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘরটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

ভুক্তভোগী মা নুরজাহান বেগম কাঁদতে কাঁদতে জানান, তাঁর ছেলে নুর আলম অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে এর আগেও অনেক কিছু নষ্ট করেছে। এখন সে জোর করে জমি লিখে নিতে চায়। সকালে জমি দিতে রাজি না হওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে বিকেলে ঘরটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। সর্বস্ব হারিয়ে এখন তিনি কোথায় থাকবেন বা কী করবেন, তা নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছেন। তিনি এই ঘটনায় ছেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

নীলফামারী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক বাদশা মাউদস আলম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের একটি দল সেখানে গিয়ে কাজ শুরু করে। আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এই বিষয়ে নীলফামারী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, আগুন দিয়ে ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে শুনেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।