মে ২৯, ২০২৬, ১১:১১ এএম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য দীর্ঘদিন ধরেই রোগী ও স্বজনদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় এই সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। বিপুল এই রোগীর চাপ ও সীমিত চিকিৎসা সুবিধার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় একটি চক্র রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে এই চক্রের তৎপরতা আবারও সামনে এসেছে।রংপুর থেকে শিশু মিনহাজকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে আনা হলে একটি দালাল চক্র তার পরিবারকে বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য প্ররোচিত করে।
অভিযোগ উঠেছে, এ সময় হাসপাতালের ভেতর থেকেই শিশুটির অক্সিজেন মাস্ক খুলে তাকে গোপনে বের করার চেষ্টা করা হয় এবং এর কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনার পর এনায়েত করিম নামে এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানোর কাজে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে আসা অসহায় রোগীদের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে এই দালালরা মোটা অঙ্কের কমিশন পেয়ে থাকে। হাসপাতালের ২৬০০ শয্যার বিপরীতে অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে আইসিইউসহ বিভিন্ন সুবিধার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব থাকার সুযোগটাই মূলত এই দালাল চক্র কাজে লাগায়। তবে দালাল নির্মূলে হাসপাতালে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন ওয়ার্ডে শয্যা সংকটের কারণে এক বেডে একাধিক রোগী রাখায় চিকিৎসা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। ভুক্তভোগী স্বজনেরা সরকারি এই হাসপাতালে দালালদের অপতৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন