মে ৩১, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
ফরিদপুরে জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে প্রায় কোটি টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ ১৬ বছর পর হাইকোর্ট থেকে চূড়ান্তভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন ব্যাংকটির তৎকালীন নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশ চন্দ্র দাস। একই চুরির ঘটনায় অর্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা একটি দেওয়ানি আপিল খারিজ করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রায় দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারকে অনর্থক হয়রানি ও চরম ভোগান্তির শিকার করার দায়ে আপিলকারী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ৬০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।চূড়ান্ত এই আইনি বিজয়ের মুখ দেখে যেতে পারেননি পরেশ চন্দ্র দাস।
নথিপত্র অনুযায়ী, বিগত ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে জনতা ব্যাংকের ফরিদপুর শাখার সুরক্ষিত ভল্ট থেকে ৯৪ লাখের বেশি টাকা রহস্যজনকভাবে লুট হয়। ঘটনার পরদিন ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করলে নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে ফৌজদারি মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালে টাকা উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ২০১৬ সালে নিম্ন আদালত সেই মামলাটি খারিজ করে দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে আপিল করে, যা গত ৩ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত চূড়ান্তভাবে খারিজ করে দেন।রায়ের পর্যবেক্ষণে তদন্তকারী সংস্থা ও ব্যাংক প্রশাসনের চরম গাফিলতির বিষয়গুলো উঠে এসেছে।উচ্চ আদালত রায়ে উল্লেখ করেন যে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ লুট হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রপক্ষ ও পুলিশের তদন্ত সংস্থা প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
ব্যাংকের ভভল্ট কীভাবে খোলা হয়েছিল তা নির্ণয়ে পুলিশ কার্যকর কোনো তদন্ত না করে কেবল একজন সাধারণ নিরাপত্তাপ্রহরীকে জড়িয়েছে। বিশেষ করে ভল্টের মূল চাবি যাদের হেফাজতে ছিল এবং ঘটনার দিন যারা পুনরায় ব্যাংকে প্রবেশ করেছিলেন, তাদের তদন্তে অন্তর্ভুক্ত না করায় প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার উদ্দেশ্য ছিল বলে আদালতের রায়ে স্পষ্ট আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।১৬ বছরের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার এই করুণ পরিণতিতে নিহতের পরিবার গভীর বেদনা প্রকাশ করেছে।
পরেশের ছেলে প্রণব কুমার দাস জানান যে দীর্ঘ সময় ধরে মিথ্যা মামলার বোঝা বইতে গিয়ে তাদের পুরো পরিবারকে চরম সামাজিক হেয় প্রতিপন্নতা এবং মানসিক হয়রানি সহ্য করতে হয়েছে। জীবনের শেষ সময়ে এসে তাঁর বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সেই মুক্তির আনন্দ তিনি নিজের চোখে দেখে যেতে পারেননি। এখন মৃত বাবার সম্মান ও সততা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি তাঁর চাকরি-পরবর্তী সমস্ত ন্যায্য পাওনা দ্রুত নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন