জুন ৭, ২০২৬, ১১:০১ এএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা প্রয়োগের নামে টাকা দাবি এবং টাকা না পেয়ে রোগীদের স্বজনদের আটকে রাখার ঘটনায় মোর্শেদা আক্তার নামে এক নার্সকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।শুক্রবার রাতে উপজেলার বিশারাবাড়ি এলাকার আব্দুল্লাহ (৪) ও খাদিজা (৩) নামের দুই শিশুকে বিড়ালে কামড় দিলে তাদের চাচা সাব্বির উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
স্বজনদের অভিযোগ, জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার সময় দায়িত্বরত নার্স মোর্শেদা আক্তার ২০০ টাকা দাবি করেন। সরকারি হাসপাতালে টিকা দিতে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই নার্স রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের অন্য সদস্যরা হাসপাতালে গেলে তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় নার্স মোর্শেদা আক্তার রোগীর স্বজনদের উদ্দেশে বলছেন, টিকা দেওয়ার জন্য টাকা দিতেই হবে। তিনি এ সময় টিকা দেওয়ার নিয়ম ও মানবতা নিয়েও নানা বিরূপ মন্তব্য করেন।ভুক্তভোগী শিশুদের চাচা সাব্বির জানান, টিকা দেওয়ার শুরুতে ওই নার্স অনীহা দেখান। পরে অনেক অনুরোধের পর টিকা দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ২০০ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের আটকে রাখা হয়।
কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ওই নার্সকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া জানিয়েছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষী প্রমাণিত হলে ওই নার্সের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন