আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
দেশের বিচার ব্যবস্থায় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর একটি অপরাধ মামলার তদন্ত কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রান্তিক অঞ্চলের একটি কওমি মাদরাসায় সংঘটিত অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর অপরাধের ঘটনায় অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাব থেকে চূড়ান্ত ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সংগৃহীত বৈজ্ঞানিক নমুনার এই ফরেনসিক ফলাফলে অভিযুক্তের অপরাধের সত্যতা শতভাগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন।নেত্রকোণার মদন উপজেলায় এক কওমি মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার বহুল আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে ডিএনএ পরীক্ষার এই চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে।মামলার বিবরণ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো ফরেনসিক নমুনার চূড়ান্ত প্রোফাইলিং সম্পন্ন হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরের ডিএনএ হুবহু মিলে গেছে, যা তার পিতৃত্বকে শতভাগ নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জানিয়েছেন যে এই অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পর আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন করে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর মদন উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং ভীতি প্রদর্শন করে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেলে থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং র্যাব অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
গত জুলাই মাসে ভুক্তভোগী শিশুটি একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয় এবং আদালতের নির্দেশে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেফহোমে অবস্থানকালীন নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন