রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শীতের আগমনী বার্তা: ব্যস্ত লেপ-তোষক কারিগররা

ফাহিম হোসেন রিজু

নভেম্বর ২১, ২০২৫, ০৪:০৫ পিএম

শীতের আগমনী বার্তা: ব্যস্ত লেপ-তোষক কারিগররা

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠতেই লেপ-তোষক তৈরির কারিগররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। হেমন্তের বিদায় এবং কার্তিক মাসের শুরুতেই এলাকাজুড়ে বইতে শুরু করেছে শীতল হাওয়া।

শেষ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত হালকা ঠান্ডা ও কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ প্রকৃতিতে শীতের আগমনকে আরও বাস্তব করে তুলেছে।

দিনের বেলায় রোদের তাপ থাকলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশার পর্দা নেমে আসছে। দেশের উত্তরের এই জনপদে শীতের আভাস পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে লেপ-তোষক তৈরি ও মজুদের কাজে এখন দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না স্থানীয় কারিগররা।

সরেজমিনে জানা গেছে, কাপড়ের ধরন ও তুলার মানভেদে লেপ-তোষকের দাম নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে ৪ থেকে ৫ হাত লেপ বা তোষক ১,০০০ টাকা থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লেপ তৈরির জন্য কারিগররা মজুরি পান ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। কারিগররা জানান, কাপড় ও তুলার দাম বাড়ায় এ বছর লেপ-তোষকের দাম কিছুটা বাড়লেও চাহিদার কোনো কমতি নেই, বরং দিন দিন তা বাড়ছে।সন্ধ্যা নামার পর থেকে সকাল পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় গরম কাপড় ছাড়া রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে অনেকেই নতুন লেপ-তোষক তৈরি করে নিচ্ছেন।

এছাড়াও, স্থানীয় রীতি অনুযায়ী নতুন মেয়ের জামাইকে শীত এলেই লেপ-তোষক দেওয়ার প্রচলন থাকায় বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে।উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী লেপ-তোষক তৈরির দোকান। রাণীগঞ্জ বাজারের একজন কারিগর বিপ্লব জানান, "এ বছর শীতের আগমন শুরু থেকেই একটু বেশি। তাই গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর কাজের চাপ অনেক বেশি। প্রতিদিনই লোকজন বাড়িতে ব্যবহারের জন্য লেপ-তোষক তৈরি করতে আসছেন।"

ঘোড়াঘাট উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি লেপ-তোষক তৈরির দোকান রয়েছে। এসব দোকানের কারিগররা এখন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।