বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ঘোড়াঘাটে বরাদ্দ সংকটে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন ‍‍`ভুতুড়ে বাড়ি

ফাহিম হোসেন রিজু

ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ০৩:২১ পিএম

ঘোড়াঘাটে বরাদ্দ সংকটে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন ‍‍`ভুতুড়ে বাড়ি

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ৩ নং সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি একসময় এলাকার মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার অন্যতম ভরসাস্থল ছিল। কিন্তু বরাদ্দ সংকট, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নজরদারির অভাবে কেন্দ্রটি এখন সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রায়, পরিত্যক্ত এবং জনমানবশূন্য ভুতুড়ে স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।

এর সরাসরি দুর্ভোগ বহন করছে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনের প্রতিটি দরজা ও জানালা ভেঙে পড়েছে বা চুরি হয়ে গেছে।

ভাঙা দেয়ালে বড় বড় ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং ইট বেরিয়ে গেছে। ভবনের ভেতরে আগাছার এমন জঙ্গল সৃষ্টি হয়েছে যে দূর থেকে স্থাপনাটিকে পরিত্যক্ত মনে হয়।

ভিতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, মেঝে জুড়ে প্লাস্টিক, ছেঁড়া কাগজ, ভাঙা কাঁচ, পশুর বিষ্ঠা, শুকনো পাতা এবং ময়লার আস্তরণ। একটিও চেয়ার, টেবিল বা চিকিৎসার সরঞ্জাম নেই। টয়লেটগুলো অকার্যকর, পানির লাইন নষ্ট। স্থানীয়রা জানান, রাত নামলেই ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়, যা এলাকায় নতুন ধরনের অশান্তি সৃষ্টি করছে।স্থানীয় নারী রাবেয়া খাতুন বলেন, "এই ভবনটি চালু থাকলে গর্ভবতী মা ও শিশুর চিকিৎসা হাতের নাগালেই পেতাম। এখন দূরে উপজেলা হাসপাতালে যেতে হয়। সাধারণ মানুষের কষ্ট কেউ বুঝে না।

উপজেলার রানীগঞ্জ সরকারি স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মনোরঞ্জন মোহন্ত ভুট্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ৩ নং সিংড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের এই অবস্থা শুধু একটি পরিত্যক্ত ভবনের গল্প নয়—এটি গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনগণের মূল্যবান একটি সেবা কেন্দ্র হারিয়ে যাবে।স্থানীয়দের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব ভবনটি সংস্কার করে পুনরায় স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে হবে। কারণ এই কেন্দ্র সচল হলে গর্ভবতী মা, শিশু স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান ও সাধারণ প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রামীণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হবে।

৩নং সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন জানান, আমরা বহুবার উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে ভবন সংস্কারের আবেদন করেছি। কিন্তু পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। উপযুক্ত সংস্কার, আসবাব, জনবল ও সরঞ্জাম পেলে কেন্দ্রটি আবার সচল করা সম্ভব।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান মেহেদী হাসান জানান, আমরা কেন্দ্রটির জরাজীর্ণ অবস্থার ব্যাপারে অবগত। এ ধরনের সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের কাজ মূলতঃ হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট (এইচইডি) এর মাধ্যমে হয়ে থাকে। তবে বরাদ্দ অনুমোদন ও নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।